অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছাড়তে শুরু করেছেন। এরই মধ্যে উপদেষ্টা পরিষদের অন্তত আটজন সদস্য কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন।
স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষমতা হস্তান্তরের পর বিদেশ ভ্রমণে কোনো ধরনের আইনি বা দাপ্তরিক জটিলতা এড়াতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা সতর্কতামূলকভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২০ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে উপদেষ্টারা কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন গত ২৯ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়টি প্রথম জনসমক্ষে আনেন। ওই দিন বিকেলে রাজধানীর বাসাবো এলাকায় ধর্মরাজিকা বৌদ্ধ মহাবিহার মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য তারা প্রস্তুত এবং এরই অংশ হিসেবে অনেক উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট যৌথভাবে ওই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
এদিকে গত রোববার রাজধানীতে সাংবাদিকদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন কয়েকজন উপদেষ্টার কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, যেসব উপদেষ্টার বিদেশ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে, তারা এরই মধ্যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।
ওই অনুষ্ঠানে নিজের ও তার স্ত্রীর কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তরের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমি এবং আমার স্ত্রী কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করিনি। যথারীতি তা বহাল রয়েছে। মেয়াদ থাকাকালে কোনো পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা মন্ত্রীর পাসপোর্ট হস্তান্তর করা খুবই অস্বাভাবিক। তবে কয়েকজন মন্ত্রী তা করেছেন। তাদের বিদেশ যাওয়ার বিষয় রয়েছে। ভিসা পেতে সুবিধার জন্য আগেভাগেই পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।”