ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র সাত দিন বাকি। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ধানের শীষের বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে চাপে পড়ছে বিএনপি। বহিষ্কার করেও অনেক বিদ্রোহী প্রার্থীকে নির্বাচনি মাঠ থেকে সরানো সম্ভব হয়নি। ফলে বিদ্রোহীদের থামাতে ধানের শীষের প্রার্থী ও মিত্র দলের প্রার্থীরা দলীয় হাইকমান্ডে দফায় দফায় তদবির করেও ফল পাচ্ছেন না।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে অন্তত ৭৯টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে বহিষ্কৃত প্রার্থীর সংখ্যা ৯০ ছাড়িয়েছে। কোনো কোনো আসনে একাধিক বিদ্রোহী থাকায় ভোটের মাঠে জটিলতা আরও বেড়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে এসব বিদ্রোহী প্রার্থী ধানের শীষের প্রার্থী ও মিত্র দলের প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্রোহীদের কারণে ভোটের অঙ্ক বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির অনেক নেতা। কয়েকটি আসনে বিএনপির নিশ্চিত জয় ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও মত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দলীয় হাইকমান্ডের সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ধানের শীষ ও জোটের প্রার্থীরা।
বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে পারেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশালে অনুষ্ঠিত জনসভাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি আসনের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে তার আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজনে বরিশাল থেকে ঢাকায় ফেরার পরও আলোচনা হতে পারে। আলোচনায় বিদ্রোহীদের ‘ছাড়’ দিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বহিষ্কৃত একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী জানিয়েছেন, কেন্দ্র থেকে তাদের সরে দাঁড়াতে নানা চেষ্টা চলছে। কিন্তু নির্বাচনি মাঠে নিজেদের অবস্থান শক্ত মনে হওয়ায় এই মুহূর্তে সরে দাঁড়ানো তাদের জন্য কঠিন।
এ বিষয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ধানের শীষের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। যারা বিদ্রোহী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তারা আর বিএনপির সদস্য নন। তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের পর দলের পক্ষে করার তেমন কিছু থাকে না। তবে যারা বিএনপিকে সমর্থন করেন, তাদের ধানের শীষে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে দলের চেয়ারম্যান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে বিএনপি ২৯১টি আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ৮টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে মিত্র দলগুলোকে। কুমিল্লা-৪ আসনে প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় সেখানে বিএনপির কোনো দলীয় প্রার্থী নেই। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অন্তত ৭৯টি আসনে ৯২ জনের বেশি বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে রয়েছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মতে, কিছু আসনে বিদ্রোহীদের জয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে। আবার কোথাও কোথাও বিদ্রোহীরা জয়ী না হলেও ভোট ভাগাভাগির কারণে বিএনপির প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এতে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যেতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নেয় বিএনপি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিদ্রোহী প্রার্থীসহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে এক মাসে বহিষ্কার করা হয়েছে। এমনকি তাদের পক্ষে মাঠে কাজ করা নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে এসব পদক্ষেপের পরও বিদ্রোহীদের নির্বাচনি তৎপরতা থামেনি।
অন্যদিকে, নির্বাচনে ভালো ফলের আশায় তফশিল ঘোষণার আগে অন্তত এক হাজার ৮০০ নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বিএনপি। এতে তৃণমূল পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক নেতাকর্মীর অভিযোগ, অতীতে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও বিভিন্ন অভিযোগে বহিষ্কৃতদের ফেরানো হলেও বর্তমান বিদ্রোহীদের ক্ষেত্রে কঠোরতা সাংগঠনিক বার্তাকে দুর্বল করছে। ফলে বহিষ্কারকে অনেকেই কার্যকর শাস্তি হিসেবে দেখছেন না।