খুলনা ও ভোলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নারী কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। সংগঠনটির দাবি, জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরাই এসব হামলায় জড়িত।
বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহকারী দপ্তর সম্পাদক বরকত উল্লাহ লতিফ বলেন, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে খুলনা-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা আবু সাইদের পক্ষে প্রচার চালানোর সময় দাকোপ উপজেলার লক্ষ্মীখোলা গ্রামে নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। তার অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় জামায়াত নেতা হরমুজ শেখ, ইলিয়াস ও আমানুল্লাহর নেতৃত্বে এ হামলা সংঘটিত হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘মহিলা ইউনিটের প্রধান রোজিনা বেগমসহ অন্তত ১১ থেকে ১২ জন নারী কর্মীকে একটি ঘরে আটকে রেখে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
বরকত উল্লাহ লতিফ ভোলার আরেকটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গত ২৮ জানুয়ারি ভোলা-৪ আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীর মেয়ে মারিয়া কামালের ওপর জামায়াত নেতা সোহেল ও আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। সে সময়ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি ইসলামপন্থী সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও জামায়াতে ইসলামী তাদের উগ্র কর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এর ফলেই বারবার এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী যুব আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি মুফতি শওকত ওসমান বলেন, জামায়াতের কিছু উগ্র কর্মী সীমা অতিক্রম করেছে। তার ভাষায়, ‘হাতপাখার গণজোয়ারে ভীত হয়ে তারা নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, যা চরম ধৃষ্টতা।’
তিনি বলেন, জামায়াত আমিরের উচিত দলের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং তাদের সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া।
ইসলামী যুব আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ নেসার উদ্দিন হুজাইফের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাফেজ শাহাদাত হোসেন, ইসলামী যুব আন্দোলন ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি হাফেজ মো. মুস্তাইজ বিল্লাহসহ অন্যান্য নেতারা।