টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১৯ বছরের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মাঠের বাইরের রাজনীতি ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন। ব্যাট-বলের লড়াইয়ের চেয়ে প্রভাব বিস্তার করেছে নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক চাপ ও অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে ছাড়াই শুরু হচ্ছে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একাধিক সূত্র জানায়, আইপিএলে মোস্তাফিজুর রহমানকে শেষ মুহূর্তে দল থেকে বাদ দেওয়া এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির পর বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। বিসিবি নিজেদের সব ম্যাচ শ্রীলংকায় আয়োজনের প্রস্তাব দিলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দেয়। বিষয়টি আইসিসির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে সম্প্রচার ও স্পনসরশিপ আয় থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরাতে আইসিসি দফায় দফায় আলোচনা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের অবস্থানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের মর্যাদা ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে না খেললেও টুর্নামেন্টে থাকছেন তিনজন বাংলাদেশি প্রতিনিধি। আইসিসির তালিকায় আম্পায়ার হিসেবে রয়েছেন শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ ও গাজী সোহেল। ধারাভাষ্যকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আতহার আলী খান।
এদিকে জাতীয় দলের অনুপস্থিতি আংশিকভাবে পুষিয়ে নিতে বিসিবি তিনটি দল—ধূমকেতু, দুর্বার ও দুরন্ত—নিয়ে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’ আয়োজন করেছে।
২০ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আজ কলম্বোয় পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে। একই দিনে কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ-স্কটল্যান্ড এবং মুম্বাইয়ে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
চার গ্রুপে বিভক্ত দলগুলোর প্রতিটি গ্রুপ থেকে দুটি করে দল সুপার এইটে উঠবে। সেখান থেকে চার দল জায়গা পাবে সেমিফাইনালে। ভারত ও শ্রীলংকার আটটি ভেন্যুতে মোট ৫৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ খেলবে শ্রীলংকায়। তারা ফাইনালে উঠলে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ হবে কলম্বোয়, অন্যথায় ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আহমেদাবাদে।
এ-গ্রুপে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়া। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত ঘরের মাঠে শিরোপার অন্যতম দাবিদার। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানও ফেভারিটের তালিকায় রয়েছে।
প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের বৈশ্বিক আসরে অংশ নিচ্ছে ইতালি, যা বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে। তবে বাংলাদেশ না থাকায় বিশ্বকাপটি দেশটির ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বিষাদময় হয়ে থাকছে।