আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। বিদেশে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হয়েছে। তার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ভেতরে তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলার বিচার চলছে।
শুক্রবার রয়টার্সের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিএনপির সম্ভাব্য সরকার গঠন ও নির্বাচনের ফলাফলের বিষয়ে পরিষ্কার মন্তব্য করেন।
ঐক্য সরকারের সম্ভাবনা নেই
রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, বিএনপি নিজেই পর্যাপ্ত আসনে জয়ী হবে। আমার রাজনৈতিক বিরোধী দলের সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের কোনো প্রয়োজন নেই। তখন বিরোধী দল কে হবে?”
তারেক রহমান আরও জানান, “আমি জানি না জামায়াতে ইসলামী কত আসনে জিতবে। তবে তারা যদি বিরোধী অবস্থানে থাকে, আমি আশা করব তারা একটি কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে কাজ করবে।”
সরকারের স্বার্থে বন্ধুত্ব, নির্দিষ্ট দেশ নয়
রয়টার্সের আরও একটি প্রশ্ন ছিল, জয়ী হলে বাংলাদেশ কি ভারত থেকে চীনের দিকে রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকবে। তারেক রহমান বলেন, “সরকারে থাকলে আমাদের তরুণদের জন্য চাকরি সৃষ্টি করতে হবে, ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করতে হবে। দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে আমরা এমন সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করব, যাদের প্রস্তাব জনগণ ও দেশের জন্য উপযুক্ত।”
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতা বর্তমানে বিদেশে আছেন বা কারাগারে। সেই কারণে শেখ হাসিনা, তার সন্তান ও দল এই মুহূর্তে রাজনৈতিকভাবে দেশে ফিরে আসার সুযোগ সীমিত।”
শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ
রয়টার্সের প্রশ্নে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “যদি জনগণ কাউকে মেনে নেয়, তাদের স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ আছে। আমাদের নীতিমালা ও দেশের স্বার্থই সিদ্ধান্তে প্রাধান্য পাবে।”
নির্বাচনের পটভূমি
নির্বাচন কেন্দ্রীয়ভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হওয়ার আশ্বাস দিলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিরোধী দলের অপ্রতিস্পর্ধা এবং ক্ষমতাচ্যুত দলগুলোর অনুপস্থিতি এবারের নির্বাচনের ব্যপ্তি প্রভাবিত করছে। বিএনপির প্রতি নির্বাচনী বাজারে মানুষের মনোভাব এবং তারেক রহমানকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও উঠে এসেছে।
এ পরিস্থিতিতে বিএনপি আত্মবিশ্বাসী যে, তারা এককভাবে ক্ষমতায় আসতে পারবে, আর দেশীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঐক্য সরকারের প্রয়োজন নেই।