ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনার জেরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। সংস্থাটির মতে, এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি মন্দার দিকে ধাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইএমএফের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসের তুলনায় কমে যেতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বাড়লে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও তীব্র হবে। জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নীতির সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এ সংঘাত যুক্তরাজ্যের নয়, তবুও এর অর্থনৈতিক চাপ দেশটিকে বহন করতে হচ্ছে। আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়ের অলিভিয়ের গৌরিনচাস সতর্ক করে বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। এতে জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় ধরে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের ওপরে থাকে, তাহলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে গভীর মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
আইএমএফের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলো বিশেষ করে যেসব দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল-তারা এ সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।