বাগেরহাটের সুন্দরবনের শুয়োর মারা খাল এলাকায় বনদস্যুদের হাতে অন্তত ১০ জেলে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে কোস্টগার্ড। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দস্যু শরীফ বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিপণের দাবিতে এসব জেলেকে অপহরণ করে। অপহৃতদের মধ্যে মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়ন ও মোরেলগঞ্জ এলাকার বাসিন্দারা রয়েছেন।
অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন মানিক শেখ, আবু বকর গাজী, জাকির ফরাজী, নুরজামাল শিকদার ও ওয়াহিদ মুন্সি। এছাড়া মোরেলগঞ্জ এলাকার আরও কয়েকজন জেলে দস্যুদের কবলে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সুন্দরবন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম নাসির উদ্দিন বলেন, শুয়োর মারা খাল এলাকা থেকে অন্তত ১০-১১ জন জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। দস্যুরা মুক্তিপণের দাবিতে তাদের জিম্মি করে রেখেছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাদের নিরাপদ উদ্ধারের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সবুর নামে এক জেলে আংশিক মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসে জানিয়েছেন, দস্যুরা জেলেদের জিম্মি করে রেখে অর্থ আদায়ের জন্য চাপ দিচ্ছে এবং টাকা না দিলে নির্যাতনের ভয় দেখাচ্ছে।
অপহৃত জেলেদের স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যরা জিম্মি থাকায় চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে।
এ বিষয়ে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে এবং সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে অপহৃতদের উদ্ধারে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সুন্দরবন অঞ্চলে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের।