নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা এলাকায় কৃষিজমি নষ্ট করে অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে নিয়মিতভাবে জমি থেকে মাটি তুলে ট্রাক ও পিকআপে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে উপজেলার চর আমান উল্যাহ ইউনিয়ন-এর চর বজলুল করিম গ্রাম। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে বেকো মেশিন দিয়ে জমি কেটে মাটি উত্তোলন করছে।
অভিযান হলেও বন্ধ হয়নি কার্যক্রম
সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে একটি বেকো মেশিন জব্দ করা হয় এবং এর চাবিও আটক করা হয়। তবে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও একইভাবে মাটি কাটার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জমির মালিকের অভিযোগ
ভুক্তভোগী জমির মালিক মো. নুরুল ইসলাম জানান, তার জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন।
প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোজাম্মেল নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি জমির মালিকানা দাবি করে এই মাটি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। তার প্রভাবের কারণে প্রশাসনিক তৎপরতা থাকলেও কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে এলাকাবাসীর ধারণা।
প্রশাসনের অবস্থান
চর জব্বর থানা পুলিশের সদস্যরা মাঝে মধ্যে ঘটনাস্থলে গেলেও অবৈধ কার্যক্রম পুরোপুরি থামেনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার ঘটনায় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকিব ওসমান বলেন, মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামও জানিয়েছেন, কৃষিজমি নষ্টের ঘটনায় প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন
এদিকে বারবার অভিযানের পরও কার্যক্রম বন্ধ না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—কার প্রভাব বলয়ে থেকে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।