জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণে আলোচনা শুরু হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আজ প্রস্তাব পাঠানো হবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ-এ।
রোববার (২০ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর। এতে পরিবহন মালিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি নিয়ম অনুযায়ী জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে এক টাকা বাড়া বা কমার সঙ্গে বাসভাড়াও প্রতি কিলোমিটারে এক পয়সা করে সমন্বয় করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ভাড়া ১৫ পয়সা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২২ সালের পর বাস-মিনিবাস পরিচালনার ব্যয় নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়নি। এর মধ্যে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে যন্ত্রাংশ, ইঞ্জিন অয়েলসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়েছে, যা ভাড়া নির্ধারণে বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বিআরটিএর এক কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মালিকপক্ষের ব্যয়ের বিষয়গুলো সমন্বয় করে একটি প্রস্তাব আজ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি প্রতি কিলোমিটারে ১৫ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, অতীতে জ্বালানির দাম কমলে যেভাবে ভাড়া কমানো হয়েছে, একই অনুপাতে এবার ভাড়া বাড়ানো উচিত।
সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হলে তা জনস্বার্থবিরোধী হবে এবং জনমনে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে। তিনি আরও বলেন, জ্বালানির দাম বাড়া-কমার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভাড়া নির্ধারণ করা হলে সেটিই হবে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।