স্যানিটারি ন্যাপকিনসহ পিরিয়ড-সংক্রান্ত পণ্যের বিতরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মিয়ানমার-এর সামরিক জান্তা সরকার। তাদের দাবি, এসব পণ্য বিদ্রোহীরা প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যবহার করছে। তবে এই ব্যাখ্যাকে ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন নারী অধিকারকর্মী ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।
২০২১ সালে গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই দেশটিতে সংঘাত চলছে। বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করতে ‘ফোর কাটস’ কৌশল বাস্তবায়ন করছে জান্তা, যার লক্ষ্য বিদ্রোহী অঞ্চলে খাদ্য, অর্থ, তথ্য ও জনবল প্রবাহ বন্ধ করা। এই নীতির অংশ হিসেবেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ ও সেতুতে পিরিয়ড পণ্য পরিবহনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যা এখন সারা দেশে বিস্তৃত হয়েছে।
নারী অধিকার সংগঠন সিস্টার্স টু সিস্টার্স-এর পরিচালক থিনজার শুনলেই ইয়ি বলেন, সেনাবাহিনী অভিযোগ করছে যে পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) সদস্যরা স্যানিটারি প্যাডকে যুদ্ধক্ষেত্রে রক্তপাত বন্ধে ব্যবহার করছে। তবে চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা স্কিলস ফর হিউম্যানিটি-এর প্রতিষ্ঠাতা মেরেডিথ বান এই দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, গুরুতর আঘাতের চিকিৎসায় এ ধরনের পণ্য ব্যবহার করা কার্যকর নয়।
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়েছে। পিরিয়ড সচেতনতা নিয়ে কাজ করা প্যান কা লে-এর তথ্যমতে, প্যাডের অভাবে অনেক নারী পুরনো কাপড়, পাতা কিংবা কাগজ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনসহ প্রজননতন্ত্রের বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
এদিকে দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এসব রোগের চিকিৎসাও অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না। কালোবাজারে ন্যাপকিনের দাম তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ফলে অনেক নারী পিরিয়ড চলাকালে ঘরের বাইরে যেতে পারছেন না, যা তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণেও বাধা সৃষ্টি করছে।
বর্তমানে সংঘাতের কারণে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে শিবিরে বসবাস করছেন। সেখানে পানির সংকট থাকায় পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিকল্প ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঋতুস্রাব নিয়ে সামাজিক ট্যাবুকে কাজে লাগিয়ে নারীদের ওপর এক ধরনের নীরব চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।