দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী-কে ঘিরে একাধিক রাজনৈতিক ও আইনি ঘটনার পর নতুন করে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। পদত্যাগ, গ্রেপ্তার, জামিন ও পরবর্তী সময়ে জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার কারণে তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা ও গুজব ছড়িয়ে পড়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর সংসদ ভবন ও সরকারি বাসভবন নিয়ে অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে তিনি এক পর্যায়ে ক্যান্টনমেন্টে অবস্থান করেন বলে দাবি করা হয়। পরে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পান।
জামিনের পর থেকেই তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের সঙ্গেও যোগাযোগ কমে গেছে বলে জানা গেছে। সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাকে দেখা যাচ্ছে না।
একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন তা পরিবারের সদস্যরাও নিশ্চিতভাবে জানেন না। তবে তার ঘনিষ্ঠদের বরাতে বলা হচ্ছে, তিনি বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কানাডা, যুক্তরাজ্য কিংবা ইউরোপের কোনো দেশে তার সম্ভাব্য গন্তব্য হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে তিনি ও তার স্বামী আবেদন সম্পন্ন করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
এদিকে তার গ্রেপ্তার ও জামিনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আদালতের সব সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো উচিত।
তবে এখনো পর্যন্ত শিরীন শারমিন চৌধুরীর অবস্থান নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি পুরোপুরি আইনি প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তাজনিত কারণে সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে।