মাদক ও সাইবার অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন মো. আলী হোসেন ফকির। সোমবার (২০ এপ্রিল) ঢাকায় ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট সদর দপ্তরে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
আইজিপি বলেন, দায়িত্বশীলতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং সফল জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করায় পুলিশ সদস্যরা নতুন আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, সিআইডি দেশের অপরাধ তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। পেশাগত দক্ষতা, আইনি সক্ষমতা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে এই সংস্থার সদস্যরা বিচার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তদন্তের গতি ও মান উন্নয়নের পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে মামলার নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আইজিপি সততা ও নৈতিকতার বিষয়েও জোর দেন। তিনি বলেন, কোনো সদস্যের অনিয়ম পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে, তাই ব্যক্তিগত স্বার্থ পরিহার করে পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধ প্রতিরোধে মূল কারণ বিশ্লেষণ করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য রেসপন্স টিম সর্বদা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দুই দিনের এই সম্মেলনে জেলা, বিশেষায়িত ইউনিট ও সদর দপ্তরের কার্যক্রম, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে এবং আলোচনার ভিত্তিতে একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সভায় ক্রাইম সিন ব্যবস্থাপনায় কুইক রেসপন্স টিম গঠন ও বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। শেষে সিআইডির বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার প্রদান করা হয়।