সন্দেহভাজন ‘পাকিস্তানি গুপ্তচর’ গ্রেপ্তার, বাংলাদেশ নিয়ে শুভেন্দুর মন্তব্য
পশ্চিমবঙ্গের হাবড়া থেকে সন্দেহভাজন এক পাকিস্তানি নাগরিক গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশ ‘জঙ্গিদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে’।
বেনাপোল সীমান্তের কাছাকাছি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবড়া থেকে রানা রউফ নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। সংস্থাটির দাবি, রানা পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন এবং জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তার যোগাযোগ রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বাংলাদেশ থেকে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ একসময় জঙ্গিদের জন্য ‘সেফ প্যাসেজ’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তার দাবি, বর্তমানে বাংলাদেশ জঙ্গিদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গকে তারা নিরাপদ করিডোর হিসেবে ব্যবহার করত।
পশ্চিমবঙ্গে সন্দেহভাজন জঙ্গি গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সময়ে জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত থাকার সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগে বাইরের রাজ্যের পুলিশ এসে এসব ঘটনায় ব্যবস্থা নিত বলে দাবি করেন তিনি। এখন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ায় এসব ঘটনা সামনে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রানা রউফের বিষয়ে শুভেন্দু আরও দাবি করেন, পাকিস্তান থেকে সরাসরি বাংলাদেশে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় ওই ব্যক্তি প্রথমে কাশ্মীরে যান। পরে কাশ্মীর থেকে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাতে হাবড়া থেকে রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসটিএফ জানিয়েছে, ২০১২ সালে নেপাল সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর ভারতীয় পরিচয় ব্যবহার করে কলকাতায় বসবাস করছিলেন তিনি।
বুধবার রানাকে বারাসাতের আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে এসটিএফের আইনজীবী প্রসেনজিৎ রানা দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা দিবস ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে তিনি নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন বলেও আদালতে দাবি করা হয়।
পরে আদালত রানাকে ১৪ দিনের জন্য এসটিএফ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে শুভেন্দুর করা বাংলাদেশসংক্রান্ত মন্তব্য তার রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে এসেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং বাংলাদেশকে জড়িয়ে করা দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।