মালয়েশিয়ায় বৈধ কাজের ভিসা বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন। দেশটিতে অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযান জোরদারের মধ্যে সরকারি প্রত্যাবাসন কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে নিরাপদে দেশে ফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানানো হয়। বার্তায় বাংলাদেশি অনিয়মিত অভিবাসীদের সরকারি নিয়ম মেনে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) মো. তরিকুল ইসলাম ভিডিও বার্তায় বলেন, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে অনিয়মিত ও ডকুমেন্টবিহীন বিদেশি নাগরিকদের নিজ নিজ দেশে ফেরার সুযোগ দিতে বিশেষ কর্মসূচি চালু রয়েছে। কর্মসূচিটির নাম মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম (BRM 2.0)।
তিনি জানান, এই কর্মসূচির আওতায় থাকা বাংলাদেশিরা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আইনসম্মত ও নিরাপদভাবে দেশে ফিরতে পারবেন। এজন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিসে সরাসরি আবেদন করতে হবে।
যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে
দেশে ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের প্রথমেই বৈধ ও মেয়াদযুক্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকতে হবে। পাসপোর্ট না থাকলে কিংবা মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ট্রাভেল পারমিট (টিপি) সংগ্রহ করতে হবে।
এরপর বাংলাদেশে ফেরার জন্য বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। মালয়েশিয়ার সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন অফিসে নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের অন্তত পাঁচ দিন পর এবং সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে বিমানের যাত্রার তারিখ নির্ধারণ করতে হবে।
আবেদনকারীকে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন অফিসে নিজেকেই উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হবে। কোনো দালাল, প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ নেই।
আবেদনের সময় মূল পাসপোর্ট অথবা ট্রাভেল পারমিট, পাসপোর্টের বায়োডাটা পৃষ্ঠার কপি, সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন পাসের কপি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুরোনো ও নতুন পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশে ফেরার নিশ্চিত বিমান টিকিটও দেখাতে হবে।
সরকার নির্ধারিত ফি ও প্রযোজ্য জরিমানাও অনুমোদিত পদ্ধতিতে পরিশোধ করতে হবে। আবেদন করার আগে সর্বশেষ ফি, জরিমানা ও অন্যান্য শর্ত ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছ থেকে জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দালালকে টাকা না দেওয়ার সতর্কতা
বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে অনিয়মিত অভিবাসীদের বিশেষভাবে সতর্ক করে বলা হয়েছে, BRM 2.0-এর আবেদন করতে কোনো দালাল বা তৃতীয় পক্ষকে অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
তরিকুল ইসলাম বলেন, কেউ বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা চাইলে সতর্ক থাকতে হবে। প্রত্যাবাসনের পুরো প্রক্রিয়া নিজ দায়িত্বে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন তিনি।
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিস এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। এতে গ্রেপ্তার বা অন্যান্য জটিলতা এড়িয়ে নিয়ম মেনে দেশে ফেরার সুযোগ পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে হাইকমিশন।