ডিভোর্সের পর কীটনাশক পানে যুবকের মৃত্যু
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে স্ত্রীর পাঠানো ডিভোর্সের কাগজ পাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তানভীর রণক (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দ্বিতীয়বার কীটনাশক পান করার পর সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
তানভীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের গোসাই গোবিন্দপুর গ্রামের ইব্রাহিম শেখের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি আগে বিদেশে ছিলেন। স্বজনদের ভাষ্য, গত ৯ আগস্ট রাজবাড়ী আদালতে ফাতেমা (২৩) নামে এক তরুণীর সঙ্গে তানভীরের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা ঢাকাসহ টাঙ্গাইলে অবস্থান করেন। পরে ফাতেমার পরিবারের অনুরোধে তাঁকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
তানভীরের পরিবারের অভিযোগ, ফাতেমা বাবার বাড়িতে যাওয়ার পর তাঁকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয়। একই সময়ে তানভীরের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তাঁরা। স্ত্রীকে আবার সংসারে ফিরিয়ে আনার আশায় ওই অর্থের ব্যবস্থা করতে তানভীর জমি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। এ জন্য সাত শতাংশ জমি বিক্রির দলিল করার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।
এরই মধ্যে তানভীরের কাছে ডিভোর্সের কাগজ পাঠানো হয়।
পরিবারের দাবি, রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে তানভীর কীটনাশক পান করেন। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে প্রথমে যশোরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর আবার তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সোমবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোবাইল ফোনে স্ত্রীপক্ষের পাঠানো ডিভোর্সের কাগজ দেখতে পান তানভীর। স্বজনদের দাবি, এ ঘটনায় তিনি আরও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাসপাতালের বাইরে গিয়ে তিনি আবারও কীটনাশক পান করেন। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় তানভীরের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্ত্রীপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ বা তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ বা তথ্য পেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তানভীরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কারও কোনো দায় রয়েছে কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।