রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে জোর দিচ্ছে সরকার ,১০ সদস্যের কমিশন গঠন
বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষা, মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমানো এবং সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে ১০ সদস্যের একটি কমিশন গঠন করেছে সরকার। কমিশনটি বাঘ সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম বাস্তবায়ন, বনভূমি পুনরুদ্ধার এবং বনসংলগ্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করবে।
বুধবার রাজধানীতে ‘বিশ্ব বাঘ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
মন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল সংরক্ষণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি জানান, নবগঠিত কমিশন বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধিতে কার্যকর কৌশল প্রণয়ন, অবৈধভাবে দখল হওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে কাজ করবে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং বনসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায়ও কমিশনটি ভূমিকা রাখবে।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বন বিভাগের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার ফলে সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণ কার্যক্রম ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সংরক্ষণ প্রচেষ্টার সফলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে পরিচালিত জরিপের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, ২০১৫ সালে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। ২০১৮ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৪-তে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জরিপে সুন্দরবনে ১২৫টি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাঘ সংরক্ষণে গঠিত নতুন কমিশন সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং বিপন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।