টিকাদান কর্মসূচিতে দীর্ঘদিনের ঘাটতির ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাব চলছে বাংলাদেশে। গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজারেরও বেশি মানুষ।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হাম প্রাদুর্ভাব শুরুর পর এ পর্যন্ত ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের বড় একটি অংশ শিশু হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া এ পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ। একই সঙ্গে টিকা সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ায় বিপুলসংখ্যক শিশু প্রয়োজনীয় সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, টিকাদান কর্মসূচিতে পর্যাপ্ত তদারকি ও নজরদারির ঘাটতির পাশাপাশি টিকা সংগ্রহের নীতিতে পরিবর্তনও সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে অনেক শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হুসাইন জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, টিকা সংগ্রহের নীতিতে পরিবর্তনের কারণে একপর্যায়ে টিকা সংকট দেখা দিয়েছিল। এর আগে ২০২৪ সালে একটি টিকাদান কর্মসূচি পিছিয়ে যায়। পরের বছর দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি বাতিল হওয়ায় টিকাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোও বাংলাদেশে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াকে হাম প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
দীর্ঘদিনের টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে হাম প্রতিরোধে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোর টিকাদান ঘাটতি সেই অর্জনকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকার ঘাটতি পূরণ, নিয়মিত টিকাদানের আওতা বাড়ানো এবং যেসব শিশু টিকা থেকে বাদ পড়েছে তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কার্যকর নজরদারি ও নিরবচ্ছিন্ন টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে হাম নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।