আট বছর ধরে অস্থায়ী ভবনে চলছে মাগুরা মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম। স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য সরকারি উদ্যোগে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে থাকলেও এবার সেই সংকট সমাধানে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় ভূমি মালিকরা। মাগুরা শহরতলীর পারলা ও গোয়ালখালি এলাকার অন্তত ৪০ জন ভূমিমালিক মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে সরকারকে ২০ একর জমি দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার করেছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে ভূমিমালিকদের স্বাক্ষর করা জমি দানের অঙ্গীকারনামা মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. মোতাকাব্বির আহমেদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় শহরের বিশিষ্ট ঠিকাদার আনোয়ার হোসেন, ফরিদ হোসেন খান, বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান খান পিকুল, পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা গোয়ালখালী গ্রামের বাসিন্দা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ সাধারণ সম্পাদক শংকর কুমার বিশ্বাস, লালটু কুমার বিশ্বাস, জমি দেওয়ার অঙ্গীকার করা ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা বিএনপি নেতা পিকুল খান জানান, মেডিকেল কলেজ প্রশ্নে আমাদের এলাকার দলমত নির্বিশেষে অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়েছে। মেডিকেল কলেজ এলাকায় যাদে জমি নেই তারাও এওয়াজ বদলের মাধ্যমে এখানে অংশ নিচ্ছেন। ফলে এখন আর মেডিকেল কলেজ স্থাপনের বিষয়ে কোন অনিশ্চয়তা রইল না। আশা করছি অচিরেই মেডিকেল কলেজটি এখানে স্থায়ী ক্যাম্পাস পাবে।
জমিদাতা শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, সরকারের চাহিদা মত এ এলাকা থেকে ২০ একর জমি সরকারকে দিতে আমরা অঙ্গীকার করেছি। তার মধ্যে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায় সাড়ে ৬ একর জমি দান করেছে। এ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় আমাদের এলাকার হিন্দু মুসলিম গরীব ধনী সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।
স্থানীয় ভূমিমালিকদের এই উদ্যোগে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে মাগুরা মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত জমি গ্রহণ করে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আট বছর ধরে অস্থায়ী ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম
মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৬ আগস্ট মাগুরায় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৫০ শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয় কলেজটির একাডেমিক কার্যক্রম।
তবে প্রতিষ্ঠার আট বছর পার হলেও এখনো নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের একটি ভবনে অস্থায়ীভাবে চলছে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম। বর্তমানে কলেজের তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নশিপ করছেন।
নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকায় শ্রেণিকক্ষ, ব্যবহারিক শিক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় দীর্ঘদিন ধরেই নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের।
জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ থমকে আছে
স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য সরকারি পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার বছর আগে ২৫ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য ৫৪ কোটি ৭৫ হাজার টাকার প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থ একনেকের মাধ্যমে বরাদ্দ না হওয়ায় জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম আর সামনে এগোয়নি। ফলে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনাও কার্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।
এ অবস্থায় স্থানীয় ৪০ জনের বেশি ভূমিমালিকের পক্ষ থেকে ২০ একর জমি দেওয়ার অঙ্গীকার নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। তাদের প্রত্যাশা, সরকার দ্রুত এই জমি গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মাগুরা মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ শুরু করবে।
সামনে এখন সরকারি সিদ্ধান্ত
স্থানীয়দের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের ক্যাম্পাস সংকট থেকে মুক্তি পেতে পারে মাগুরা মেডিকেল কলেজ। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য আরও উন্নত একাডেমিক পরিবেশ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তবে জমি গ্রহণ, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং অবকাঠামো নির্মাণসহ পরবর্তী ধাপগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপরই নির্ভর করছে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের ভবিষ্যৎ।