ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান বাজানো নিয়ে পুলিশের সঙ্গে মাদ্রাসাছাত্রদের সংঘর্ষ, আহত ২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইনসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে মাদ্রাসাছাত্রদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সদস্য, মাদ্রাসাছাত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে জেলা পুলিশের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১১টার পর জেলা শহরের পশ্চিম মেড্ডা এলাকায় পুলিশ লাইনসের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ, মাদ্রাসাছাত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর আগমন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ লাইনসে জেলা পুলিশের উদ্যোগে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে গান বাজানো হচ্ছিল।
এ সময় উচ্চ শব্দে গান বাজানো বন্ধ অথবা শব্দ কমানোর অনুরোধ জানাতে কয়েকজন মাদ্রাসাছাত্র পুলিশ লাইনসের ভেতরে যান। সেখানে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইনস এলাকায় প্রবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। এর জবাবে মাদ্রাসাছাত্ররা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাঁদের বুধবার পরীক্ষা রয়েছে। পুলিশ লাইনসের ভেতরে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর কারণে পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছিল। এ কারণে প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে গিয়ে গান বন্ধ বা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। তাঁদের সঙ্গে পুলিশের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা করে বলে অভিযোগ করেন দারুল আরকাম মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী।
সংঘর্ষের পর পুলিশ লাইনস এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ওবায়দুর রহমানের বক্তব্য জানতে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।