জেন-জি বিক্ষোভ ঠেকাতে নতুন কৌশল, বিতর্কে ভারতীয় প্রশাসন
ভারতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু পদক্ষেপ। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বা সংশ্লিষ্টদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিক্ষোভকারীদের ফোন করা, হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন শেয়ার করতে বলা এবং বাড়িতে গিয়ে সতর্ক করার মতো কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন শহরে চলমান শিক্ষার্থী বিক্ষোভের পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ শুরু করেছে। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মামলা বা আইনি নোটিশ রয়েছে, তাদের অনেকেই স্থানীয় থানার পক্ষ থেকে ফোন ও বার্তা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি স্ক্রিনশটেও দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে আন্দোলনকারীদের নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন শেয়ার করার অনুরোধ বা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাড়িতে অবস্থান করছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া মুম্বাই ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের বাসায় পুলিশ সদস্যদের যাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। সেখানে পরিবারের সদস্যদের চলমান তদন্ত সম্পর্কে অবহিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জনসমাবেশে অংশগ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন, রেলস্টেশন এবং সম্ভাব্য বিক্ষোভস্থলগুলোর আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আগের আটক হওয়া ব্যক্তিদের তথ্যও বিভিন্ন থানায় পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব পদক্ষেপকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের দাবি, তরুণদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হলে তা ভবিষ্যতে পাসপোর্ট, উচ্চশিক্ষা এবং চাকরির ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সেই বিবেচনায় তাদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের একাংশ বলছেন, ব্যক্তিগত অবস্থান পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগ নজরদারি এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে সতর্ক করার মতো উদ্যোগ নাগরিক স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্ন উত্থাপন করছে। তাদের মতে, এসব কার্যক্রম সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
উল্লেখ্য, দিল্লিতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মুম্বাইসহ বিভিন্ন শহরে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন।