হরমুজ প্রণালির কাছে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। হামলার পর জাহাজটির ইঞ্জিনরুমে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে ওমানের নৌবাহিনী অভিযান চালিয়ে জাহাজে থাকা ২৭ জন ক্রুকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। উদ্ধার হওয়া ক্রুদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি প্রকৌশলীও রয়েছেন।
ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘এমভি কেপ দাও’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দর থেকে কয়লা খালাস করে ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। ওমান উপকূল থেকে প্রায় ২ দশমিক ৫ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকাকালে জাহাজটি হামলার শিকার হয়।
হামলার পর জাহাজটির ইঞ্জিনরুমে আগুন ধরে যায়। এতে সুরজ যাদব নামে এক ভারতীয় নাবিক নিহত হন। তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা এবং জাহাজটিতে উইপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আগুনের কারণে তাঁর মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে ক্যাপ্টেন আতীক ইউএ খান জানিয়েছেন।
এফএসইউআইয়ের এক্স পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে দুটি টর্পেডো আঘাত হানে। এর একটি নাবিকদের থাকার জায়গার কাছাকাছি বন্দর পাশের সি-ডেকে এবং অন্যটি ইঞ্জিনরুমের কাছে জাহাজের মূল কাঠামোয় আঘাত করে।
জাহাজটিতে মোট ২৮ জন ক্রু ছিলেন, যাঁদের মধ্যে ২০ জন ভারতীয়। ভারতীয় নাবিকদের ১৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে সামুদ্রিক সূত্র জানিয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ক্রুদের মধ্যে জাহাজটির প্রধান প্রকৌশলী বাংলাদেশের মোহাম্মদ আমান উল্লাহও রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ১৫তম ব্যাচের সাবেক ক্যাডেট।
ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করা নাবিকদের নিরাপদে তীরে নিয়ে গেছে। ভিসাসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের একটি হোটেলে রাখা হবে। পরে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গেছে।
নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ভারতীয় দূতাবাস। নিহত সুরজ যাদবের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানিয়েছে দূতাবাসটি।
এদিকে, হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষই দায় স্বীকার করেনি। হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সংলাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পাশাপাশি নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
রূপক/ 24-09-26