শেখ হাসিনার বক্তব্যের সুযোগ দেওয়ায় নিন্দা জানালেন রিজভী
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনাকে পরিকল্পিত বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী দাবি করেন, দিল্লিতে গ্লোবাল জার্নালিস্ট ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের পরিকল্পনার অংশ। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশ সরকারের আপত্তি জানানোর পরও অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়া দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের পরিপন্থী।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন মামলার আসামি এবং তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যোগ নিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণসংক্রান্ত চুক্তি থাকার পরও তাঁকে ফেরত না দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মানজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, বিষয়টি শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রশ্ন নয়, বরং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এক ধরনের হস্তক্ষেপ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হলেও ভারতের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রিজভীর দাবি, শেখ হাসিনার পতনের বার্ষিকীর দিন দিল্লিতে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং সেখানে তাঁর বক্তব্যের সুযোগ দেওয়ার ঘটনা ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের স্মৃতির প্রতি এটি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে রিজভী বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যখনই দেশ স্বনির্ভরতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পথে এগিয়েছে, তখনই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা ষড়যন্ত্র দেখা দিয়েছে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বর্তমান সময়েও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন।