জমির নামজারি করতে সরকারি নির্ধারিত ফি যেখানে ১ হাজার ১৫০ টাকা, সেখানে এক সেবাগ্রহীতার কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক তহশিলদারের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযুক্ত তহশিলদার মোহাম্মদ আবদুস সোবাহান। ভিডিওতে দেখা যায়, চারটি পৃথক দলিলের জমির নামজারি বা নতুন খতিয়ান খোলার জন্য এক সেবাগ্রহীতার কাছে তিনি ৭০ হাজার টাকা দাবি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
‘১১৫০ টাকার কাজে ৭০ হাজার কেন?’
রূপক/ অরণ্য ডেস্ক
ভিডিওতে ওই সেবাগ্রহীতাকে অতিরিক্ত অর্থের বিষয়ে আপত্তি জানাতে দেখা যায়। তিনি প্রশ্ন করেন, সরকারি ফি যেখানে ১ হাজার ১৫০ টাকা, সেখানে ৭০ হাজার টাকা কেন লাগবে। জবাবে তহশিলদার সার্ভেয়ার-কানুনগোসহ ভূমি অফিসের মোট আটটি টেবিলের খরচের হিসাব তুলে ধরেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।
পরে দুটি দলিলের বিপরীতে একটি খতিয়ান খুলে দেওয়ার জন্য ২০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয় বলে অভিযোগ। এর মধ্যে নগদ ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। বাকি ১০ হাজার টাকা বিকাশে দেওয়ার প্রস্তাব করা হলে তাতে আপত্তি জানিয়ে নগদে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তহশিলদার—এমন দৃশ্যও ভিডিওতে রয়েছে।
সেবাগ্রহীতার দাবি
অভিযোগকারী মহিউদ্দিন খন্দকার (৪২) চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাঁর দাবি, চারটি পৃথক দলিলের জমি একই খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি ভূমি অফিসে যান। তখন সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ১৫০ টাকা ফির পরিবর্তে তাঁর কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
মহিউদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে দর-কষাকষির পর সরকারি ফিসহ ২০ হাজার টাকায় কাজ করার কথা হয়। তিনি ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দেন এবং বাকি টাকা কাজ শেষ হলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তবে তাঁর অভিযোগ, এরপর কয়েক মাস তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানির পর চারটি দলিলের মধ্যে দুটি বাদ দিয়ে বাকি দুটি দলিলের ভিত্তিতে একটি খতিয়ান করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারি রাজস্ব খাতের ১ হাজার ১৫০ টাকা ফি পরিশোধের জন্যও তাকে চাপ দেওয়া হয়।
অভিযোগ অস্বীকার তহশিলদারের
তবে ঘুষ বা অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন তহশিলদার মোহাম্মদ আবদুস সোবাহান। তাঁর দাবি, মহিউদ্দিন খন্দকার তাঁর কাছে যাননি এবং জমি-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রও তাঁর কাছে জমা দেওয়া হয়নি।
কারণ দর্শানোর নোটিশ
জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা গেছে, জমির মালিকানা পরিবর্তনের পর সরকারি রেকর্ড বা খতিয়ানে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত বা হালনাগাদ করার প্রক্রিয়াকে নামজারি বা মিউটেশন বলা হয়। এ সেবার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ১ হাজার ১৫০ টাকা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়টি নজরে আসার পর অভিযুক্ত তহশিলদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান।
তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।