ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে ভিন্নতার আভাস মিলেছে। সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই নির্বাচন কমিশন তারিখ দিয়েছে—স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এমন মন্তব্যের বিষয়ে সরাসরি কোনো পাল্টা বক্তব্য দিতে চাননি ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, ইউপি নির্বাচন হবে—এটি নিশ্চিত হলেও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া।’
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে কমিশনে গত দুই দিন ধরে প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় একটি প্রাথমিক বা টেন্টেটিভ সময়সূচি তৈরি করা হয়েছে।
পাঁচ ধাপে নির্বাচনের প্রাথমিক পরিকল্পনা
ইসি সচিব জানান, প্রাথমিক পরিকল্পনায় ইউপি নির্বাচন পাঁচ ধাপে আয়োজনের কথা ভাবা হয়েছে। পাশাপাশি আরও দুটি ধাপ রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছে। তবে এটি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
তার ভাষায়, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত অংশীজনদের নিয়ে বৈঠক হবে। সেখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় মতামত ও তথ্য নেওয়া হবে।
এসব ইনপুট পর্যালোচনা করেই পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করবে কমিশন।
১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকেই মিলবে দিকনির্দেশনা
ইসি সচিব বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হয়—এমন একটি প্রাথমিক ধারণা হিসেবেই পাঁচ ধাপ ও দুটি রিজার্ভ ধাপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো তাদের প্রস্তুতি, সম্ভাব্য সমস্যা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য কমিশনের সামনে তুলে ধরবে।
মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও মতামত পাওয়ার ভিত্তিতে কমিশনই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে।
সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। কার সঙ্গে কখন বা কীভাবে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে এই মুহূর্তে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি নন তিনি।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে ইসি সচিব আরও বলেন, ‘উনি যেটা বলেছেন সেটা শিরোধার্য। তবে এ বিষয়ে পাল্টা কোনো মন্তব্য করার ধৃষ্টতা আমি দেখাব না। নো কমেন্টস ফ্রম মাই সাইড।’
ফলে আপাতত ইউপি নির্বাচন আয়োজনের পাঁচ ধাপের যে পরিকল্পনা সামনে এসেছে, সেটিকে চূড়ান্ত সময়সূচি হিসেবে দেখছে না নির্বাচন কমিশন। ১৭ সেপ্টেম্বরের সংশ্লিষ্টদের বৈঠকের পরই নির্বাচনের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।