মায়ের মৃত্যুর পর শেষকৃত্যে অংশ নিতে সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের সাবেক নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া আইন অনুযায়ী এ আদেশ দেন।
জেলা প্রশাসক জানান, চিন্ময় কৃষ্ণের ভাইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি বিবেচনা করে তাকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে হাটহাজারীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিন্ময়ের মা সন্ধ্যা রানী ধর (৭০) মারা যান। হাটহাজারী উপজেলার পুণ্ডরীক ধাম মন্দিরে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্যারোলে মুক্তির পর চিন্ময়কে সেখানে নেওয়া হবে।
শেষকৃত্যকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ জানান, শেষকৃত্য শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যে মামলায় কারাগারে চিন্ময়
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে ৩১ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়েছিল। সংঘর্ষের সময় আদালত চত্বরের বাইরে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনার পর ভাঙচুর, হামলা, সংঘর্ষ ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে একাধিক মামলা হয়। পরবর্তীতে সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা জামাল বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। তার ভাই খান-এ-আলমও কোতোয়ালি থানায় ৭০ জন আইনজীবীসহ মোট ১১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ। ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি আদালত এই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
এ পর্যন্ত পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন চিন্ময় কৃষ্ণ। তবে অন্য মামলাগুলো চলমান থাকায় তিনি কারাগারেই রয়েছেন।