পুলিশের বড় একটি অংশের যানবাহন পুরোনো ও অচল। এর মধ্যেই মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীরা পুলিশের অবস্থান সনাক্ত করতে নজরদারিতে ড্রোন ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার মেডিকেল ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের ইয়াবায় আসক্ত করার আশঙ্কাজনক তথ্যও সামনে এসেছে। এসবের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে বিদ্যুৎ কার্যালয়ে হামলার আশঙ্কাসব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রচলিত অপরাধের পাশাপাশি নতুন ধরনের বেশ কিছু ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় এসব তথ্য উঠে আসে।
সাড়ে ৬ হাজারের বেশি যান আট বছরের পুরোনো
বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে পুলিশের সাড়ে ৬ হাজারের বেশি যানবাহনের বয়স আট বছরের বেশি। অনুমোদিত ৯ হাজার ৭৮৭টি মোটরসাইকেলের মধ্যে ৪ হাজার ২৮৪টি অচল। ফলে সচল মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার।
এ ছাড়া থানাগুলোতে ২ হাজার ৬৫৬টি পিকআপের ঘাটতি রয়েছে। পুলিশের লজিস্টিক ও যানবাহন খাতের এই ঘাটতি পূরণে বছরে অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে বৈঠকে জানানো হয়।
নিয়মিত বাজেটের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ কঠিন হওয়ায় বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় এসেছে।
পুলিশের অবস্থান জানতে ড্রোন ব্যবহার করছে অপরাধীরা
বৈঠকে মুন্সীগঞ্জের একজন সংসদ সদস্য জানান, তাঁর এলাকায় অপরাধীরা পুলিশের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলার নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। প্রচলিত অপরাধের পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার সক্ষমতাও অপরাধীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে বলে বৈঠকের আলোচনায় উঠে আসে।
হলগুলোতে ইয়াবা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বৈঠকে মেডিকেল ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের ইয়াবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার তথ্য পাওয়ার কথা জানান।
রাত জেগে পড়াশোনার অজুহাতকে ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের মাদকের দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়।
বিদ্যুৎ নিয়ে জনঅসন্তোষের আশঙ্কা
বৈঠকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হলে বিদ্যুৎ কার্যালয়ে হামলার আশঙ্কার কথাও উঠে আসে।
অর্থাৎ, পুলিশের যানবাহন ও লজিস্টিক সংকটের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ, মাদক এবং জননিরাপত্তা ঘিরেও নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশের মনোবল নিয়েও আলোচনা
স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের ওপর হামলা, থানায় আক্রমণ ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় মাঠপর্যায়ের সদস্যদের আত্মবিশ্বাস ও মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এ ছাড়া বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুনরায় পদায়ন নিয়েও বৈঠকে প্রশ্ন তোলা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মকর্তাদের তালিকা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে বৈঠকে পুলিশের যানবাহন ও লজিস্টিক ঘাটতি, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ, মাদক বিস্তার, জনঅসন্তোষ এবং বাহিনীর মনোবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এসব বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে আলোচনায় আনা হয়।
রূপক- 19/09/26