ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার পথ বেছে নেওয়ার কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে এমন কঠোর বার্তা দেন।
ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পুনর্গঠনের সুযোগ দিয়ে একটি চুক্তি করা হবে, নাকি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দ্রুত ‘নিশ্চিহ্ন’ করা হবে—এ বিষয়ে তার সামনে একটি বড় সিদ্ধান্ত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরানকে এমন অবস্থায় ঠেলে দেওয়ার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে দেশটির পক্ষে অন্য দেশ বা জনগণের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর সক্ষমতা না থাকে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। তিনি দাবি করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করলেও তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
এর পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা নিয়েও অভিযোগ তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছে।
তবে একই ভাষণে ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও উন্মুক্ত রাখেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হলে দেশটি আবার গড়ে ওঠার সুযোগ পেতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হতে পারে।
জাতিসংঘে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সময় ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই দিনে ইরান-সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে। পরে ট্রাম্পও আলোচনাটিকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাঁর মন্তব্যকে ‘প্রচার’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর জবাব দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মঞ্চে এমন বক্তব্যের ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার পাশাপাশি চলমান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের ‘চুক্তি অথবা নিশ্চিহ্ন’—এই বক্তব্যকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
রূপক/ 23/09/26