টানা তিন দফা দাম বাড়ার পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা কমানো হয়েছে। এতে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করে বাজুস। ওই দিন সকাল থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) পর্যন্ত দেশের বাজারে একই দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।
বাজুসের নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ৭১৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৪০ টাকা। স্বর্ণের এক ভরি বলতে ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম বোঝায়। বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমেছে। সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে বাজুসের প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন মূল্য ঘোষণা করা হয়। তবে স্বর্ণের দাম কমানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে নতুন সিদ্ধান্তে শুধু স্বর্ণের বাজারমূল্য কমেছে।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১৩৪ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৬৮ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। ওই বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর স্বর্ণের দাম সমন্বয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
টানা তিন দফা মূল্যবৃদ্ধির পর নতুন করে দাম কমানোর সিদ্ধান্তে দেশের স্বর্ণের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের দামের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরবর্তী সময়ে আবারও মূল্য সমন্বয় করতে পারে বাজুস।