শক্তিশালী টাইফুন চাম্পির তাণ্ডবে বিপর্যস্ত তাইওয়ান। ঝড়ের আঘাতে একজন নিহত ও ৫২৭ জন আহত হয়েছেন। উপড়ে পড়েছে গাছপালা, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে লাখো বাড়ি এবং বাতিল করা হয়েছে শত শত ফ্লাইট। দুর্বল হয়ে পড়া ঝড়টি এখন চীনের উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
চলতি বছর প্রশান্ত মহাসাগরে আঘাত হানা শক্তিশালী ঝড়গুলোর মধ্যে অন্যতম চাম্পি একপর্যায়ে সুপার টাইফুনে পরিণত হয়েছিল। বর্তমানে দুর্বল হয়ে পড়লেও ঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১২৬ কিলোমিটার রয়েছে বলে জানিয়েছে তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ)।
সিডব্লিউএর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ঝড়টির কেন্দ্র তাইওয়ান থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থান করছিল। এর আগে ভোরে ঝড়টি ইলান কাউন্টির উত্তর-পূর্ব উপকূল ঘেঁষে অতিক্রম করে। পরে সমুদ্রের ওপর বৃত্তাকার পথে ঘুরে আবার উত্তর দিকে সরে যায়। উপকূলের কিছু এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৭ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। এতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বহু বাড়ির ছাদ উড়ে যায়।
‘মধ্যরাতে পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ’
ইলান এলাকায় নিজের বাগানে উপড়ে পড়া কলাগাছ দেখতে গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক লিন জানান, মধ্যরাতের দিকে ঝড়ের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ছিল। রাতভর ভয়ে ঘুমাতে পারেননি তিনি। বহু বছর ধরে এমন পরিস্থিতি দেখেননি বলেও জানান এই শিক্ষক।
তাইওয়ানের দমকল বিভাগ জানিয়েছে, লিউকিউ দ্বীপে ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিতে আহত হয়েছেন ৫২৭ জন।
তাইওয়ান পাওয়ার কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের কারণে ২ লাখ ৮৮ হাজারের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে অধিকাংশ বাড়িতে সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়েছে।
পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার নতুন করে ২৫৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর আগের দিন শুক্রবার বাতিল হয়েছিল প্রায় এক হাজার ফ্লাইট। রাজধানী তাইপেসহ উত্তর ও মধ্য তাইওয়ানের বিস্তীর্ণ এলাকায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
### চীনের উপকূলে সতর্কতা জারি
টাইফুন চাম্পি দুর্বল হয়ে চীনের উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে চীনের উপকূলে সরাসরি আঘাত হানার আশঙ্কা কম বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। ঝড়টির প্রভাবে দেশটির পূর্বাঞ্চলে প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ঝেজিয়াং প্রদেশে একটি বিশেষ দল পাঠিয়েছে। রোববার পর্যন্ত ওই অঞ্চলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সতর্কতা জারি রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৪০০ উদ্ধারকর্মী ও ৬০০টি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ৪১ হাজারের বেশি দমকলকর্মীকে জরুরি দায়িত্বে রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ঝেজিয়াংয়ের উপকূলীয় শহর তাইঝৌতে ৩ হাজার ৮০০টির বেশি মাছ ধরার নৌকা বন্দরে ফিরে এসেছে। সমুদ্রের মাছের খামারে কাজ করা কর্মীদের তীরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দ্বীপগুলোতে থাকা ২ হাজার ৮৪ জন পর্যটককেও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সমুদ্রে চলমান ২৫টি নির্মাণ প্রকল্পের কাজ বন্ধ এবং ১৮টি যাত্রীবাহী ফেরি রুটের চলাচল স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, চীনের উপকূল বরাবর উত্তর দিকে এগিয়ে যাওয়ার পর টাইফুনটি শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ জাপানের দিকে যেতে পারে। ঝড়টির গতিপথ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ধারিত হবে।
সূত্র: রয়টার্স