নেত্রকোনায় নিখোঁজের ছয় দিন পর নাজমা আক্তার (৩৪) নামে এক নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর সাবেক স্বামী নুরুল আমীনকে (৪০) আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিডির তদন্তে নেমে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যার তথ্য বেরিয়ে আসে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌগাতী ইউনিয়নের খাটপুড়া ব্রিজসংলগ্ন শ্মশানঘাটের পাশ থেকে হত্যাকাণ্ডের আলামত উদ্ধার করা হয়। পরে নুরুল আমীনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বাড়ির পাশের ঢুকিয়ালী নদীর পাড়ে মাটিচাপা অবস্থায় নাজমার মরদেহ পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নাজমা নিখোঁজ হন। তিন দিন পর তাঁর ছোট ভাই নেত্রকোনা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে নুরুল আমীনকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নাজমা ও নুরুল আমীনের প্রায় ১৪ বছর আগে বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের কারণে একাধিকবার তাঁদের বিচ্ছেদ ও পুনরায় বিয়ে হয়েছিল। সর্বশেষ তাঁরা আলাদা থাকছিলেন। নাজমার দায়ের করা ভরণপোষণের একটি মামলাও চলমান ছিল। এ ছাড়া ধর্ষণের অভিযোগে করা আরেকটি মামলাও পিবিআই তদন্ত করছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন নাজমার সঙ্গে নুরুল আমীনের দেখা হয়। পরে ভরণপোষণের টাকা দেওয়ার কথা বলে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে মৌগাতী ইউনিয়নের খাটপুড়া ব্রিজ এলাকায় যান। সেখানে টাকা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে নাজমার ওপর হামলা করা হয়। পরে তাঁকে শ্মশানঘাটের পাশে নিয়ে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয় বলে পুলিশের কাছে নুরুল আমীন স্বীকার করেছেন।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর মরদেহ কাঁধে করে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নদীর পাড়ে নিয়ে গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি মো. আবুল খায়ের জানান, নুরুল আমীনের দেখানো স্থান থেকে নাজমার ব্যবহৃত ওড়না, মোবাইল ফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নদীর পাড় থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্তসহ আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর নিয়মিত মামলা করা হবে। হত্যার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।