সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বাধার মুখে নারী ফুটবলের প্রীতি ম্যাচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। গত ৫ অক্টোবর স্বপ্নচূড়া ক্লাবের আমন্ত্রণে জারা স্পোর্টস ক্লাবের মেয়েদের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে ম্যাচটি পুনরায় আয়োজনের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বপ্নচূড়া ক্লাবের কর্মকর্তা রাকিব আহমেদ ভূঁইয়া ও ফুটবলার শাবানা। তাঁরা ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি, বাধার মুখে পড়ার অভিজ্ঞতা এবং খেলতে না পারার হতাশার কথা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী ব্যারিস্টার সিরাত জাহান শুক্লা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঠাকুরগাঁও ও ফরিদপুরে নারী ফুটবল বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। এবার গণতান্ত্রিক ও ক্রীড়াবান্ধব সরকারের সময়ও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি দিরাইয়ে ম্যাচটি পুনরায় আয়োজনের দাবি জানান।
স্বপ্নচূড়া ক্লাবের কর্মকর্তা রাকিব আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ২০১৯ সাল থেকে তাঁদের ক্লাব ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত। তবে এবারই প্রথম এমন বাধার মুখে পড়েছেন তাঁরা। ম্যাচ আয়োজনের সব প্রস্তুতি থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়ভার নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাকিবের ভাষ্য, স্থানীয় প্রশাসনের একপর্যায়ে তাঁকে বলা হয়, খেলা হলে কোনো ঘটনা ঘটলে এর দায় তাঁকেই নিতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি বন্ধ করতে বাধ্য হন তাঁরা।
খেলতে না পারার কষ্ট তুলে ধরে স্বপ্নচূড়া ক্লাবের খেলোয়াড় শাবানা বলেন, অনেক কষ্ট করে তাঁরা খেলাধুলা করেন। এভাবে বাধা ও হুমকির মুখে পড়লে খেলোয়াড়দের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়। তাঁরা খেলতে চান বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদিকা ও সাবেক জাতীয় তারকা শুটার শারমিন আক্তার রত্না বলেন, যারা ফুটবলকে অশ্লীলতার সঙ্গে যুক্ত করেন বা খেলাধুলাকে অশ্লীল মনে করেন, তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। খেলোয়াড়দের হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নারীরা ক্রীড়াঙ্গনে সাফল্য অর্জন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে খেলতে গিয়ে তাঁদের বাধার মুখে পড়তে হবে কেন?
গত দেড় বছরে ঠাকুরগাঁও ও ফরিদপুরের পর সুনামগঞ্জেও নারী ফুটবলারদের বাধার মুখে পড়ার ঘটনা ঘটেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। তবে শুধু প্রতিবাদ জানিয়ে থেমে থাকতে চায় না মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন ও জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সভানেত্রী সিরাত জাহান শুক্লা।
তিনি বলেন, মহিলা অধিকার পরিষদ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মেয়েরা যেন স্বাধীনভাবে খেলাধুলা করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে সংস্থাটি। যেখানে বাধা আসবে, সেখানেই প্রতিবাদ জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে নারী খেলোয়াড়দের বাধার মুখে পড়ার ঘটনায় জেলা ও বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এসব সংস্থা বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার অধীনে থাকলেও তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে তাদের ভূমিকা কী এমন প্রশ্নের জবাবে সিরাত জাহান শুক্লা বলেন, তাঁদের কমিটি গত ১৮ জুলাই গঠিত হয়েছে। বর্তমানে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কমিটি পুনর্গঠনের কাজ চলছে। সুনামগঞ্জে এখনো তাঁদের কোনো কমিটি নেই। কমিটি গঠনের পর স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ভূমিকা রাখা হবে বলে জানান তিনি।
অরণ্য- ১১.১০.২৬