রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ঘটনার জন্য ছাত্রশিবিরকে দায়ী করেছেন রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। তিনি ঘটনাটিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি’ উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় অন্তত চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। এ ছাড়া আরও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী দাবি করেন, সাংবাদিক ও ছাত্রদলের মধ্যে দূরত্ব তৈরিতে ছাত্রশিবির ‘চক্রান্ত’ করছে।
তিনি লেখেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা তাদের ‘ভাই, বন্ধু’ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাংবাদিকরা সত্য প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে হামলার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসার বিষয়ে পোস্টে সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
রাহী আরও বলেন, ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের গায়ে হাত তুলবে না। সাংবাদিক ও ছাত্রদলের মধ্যে দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরিতে শিবিরের অপচেষ্টার নিন্দা জানান তিনি।
ঘটনাটিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, কোনো সাংবাদিক ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, হামলার একটি ভিডিওতে দেখা যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের ‘গুপ্ত শিবির’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, কোনো নিরপেক্ষ সাংবাদিকের ওপর হামলা হয়নি; বরং ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করতে আসা সাংবাদিক পরিচয়ধারীদের প্রতিহত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে মারধরের উদ্দেশ্যে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হলের সামনে আসেন। এ সময় কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ, ব্যাট-বলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
পরে প্রক্টর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে অস্ত্রগুলো লুকিয়ে ফেলা হয় বলে তাদের দাবি। এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অস্ত্র হাতে অবস্থানের খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনায় ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমের নাম এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ছাত্রদলের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী সাংবাদিকদের ওপর হামলায় অংশ নেন।
তবে ঘটনার সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সংশ্লিষ্টতা বা হামলার পেছনে সংগঠনটির কোনো ভূমিকার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে ছাত্রদল ও সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেলেও হামলার ছবি ও ভিডিওতে অস্ত্রধারী কয়েকজনকে দেখা গেছে। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলায় কারা জড়িত ছিলেন, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
রাবি/ ০৫-১০-২৬