দেশে প্রায় ৫ হাজার ৪৮৯টি উচ্চমূল্যের বা বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৩৯টির বেশি গাড়ির তথ্য সংশ্লিষ্ট মালিকদের আয়কর নথিতে অপ্রদর্শিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। অন্যদিকে প্রায় ২ হাজার ৭১৯টি গাড়ির তথ্য আয়কর নথিতে ঘোষণা করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
আয়কর রিটার্নের আওতা বাড়ানো এবং সম্ভাব্য কর ফাঁকি শনাক্ত করতে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। এ লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের কর কর্মকর্তাদের বিআরটিএর গাড়ির মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে আয়কর নথি মিলিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি কর কমিশনারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এ নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকরা নিয়মিত আয়কর রিটার্ন দাখিল করছেন কি না এবং তাঁদের ঘোষিত আয় ও সম্পদের সঙ্গে গাড়ির মূল্যের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে বলা হয়েছে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, কর নথিতে অপ্রদর্শিত ১ হাজার ৩৩৯টির বেশি গাড়ির মধ্যে টয়োটা, বিএমডব্লিউ, মার্সিডিস বেঞ্জ, জিপ, ল্যান্ড রোভার, অডি, রেঞ্জ রোভার, পোর্শে, জাগুয়ার, বেন্টলি, রোলস রয়েস, ক্যাডিলাক, মাসেরাতি, টেসলা, ফেরারি ও ল্যাম্বরগিনির মতো ব্র্যান্ডের গাড়ি রয়েছে।
কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, এসব গাড়ির প্রতিটির মূল্য এক কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষমতা ও সিসি অনুযায়ী এসব যানবাহনে তুলনামূলক বেশি শুল্ক-করও দিতে হয়।
এনবিআর মনে করছে, কারও ঘোষিত আয় ও সম্পদের তুলনায় তার মালিকানাধীন বিলাসবহুল গাড়ির মূল্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকলে সেটি যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে গাড়ি কেনার অর্থের উৎস, আয়কর রিটার্নে গাড়িটির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে কি না এবং সম্পদের হিসাব যথাযথভাবে দেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয় পরীক্ষা করা হবে।
এর আগে গত বছর সিআইসি ৪০৯ জন গাড়ির মালিকের সন্ধান পেয়েছিল, যাঁরা বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিলাসবহুল গাড়ি কিনে বিআরটিএতে নিবন্ধন করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের তথ্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ গাড়ির মালিকানা থাকলেও তাঁরা আয়কর নথির আওতায় ছিলেন না।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি কর অঞ্চলের অনুসন্ধান ও তদন্তদল নিজ নিজ এলাকায় উচ্চমূল্যের গাড়ির মালিকদের তথ্য যাচাই করবে। যাঁরা রিটার্ন দাখিল করছেন না অথবা রিটার্নে গাড়ির তথ্য গোপন করেছেন, তাঁদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনবিআর শুধু বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের নয়, আয়কর রিটার্নের আওতা বাড়াতে উৎসে কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠান ও সঞ্চয়পত্রধারীদের ওপরও নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কর্মকর্তাদের মতে, বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার তথ্যের সঙ্গে আয়কর নথি সমন্বয় করা গেলে কর ফাঁকির সম্ভাব্য ঘটনা শনাক্ত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে রিটার্ন দাখিলের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আদায়েও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।