রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। আম্মারের দাবি, তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলা হলেও সেগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা বলেন আম্মার। এর আগে একই দিন রাবি শিবিরের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আহমেদ মুন্সীর একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে আম্মারের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে শিবিরের তিনটি চিঠির বরাত দিয়ে তার সাথী পদ স্থগিত ও বাতিলের তথ্য সামনে আসে।
শিবিরের চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগ, নৈতিক পদস্খলন, নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা, অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও সম্পদ তছরুপের মতো অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগকে ‘অভিযোগমাত্র’ হিসেবে উল্লেখ করে আম্মার বলেন, তিনি যেসব কাজ করেননি, সেগুলো করেননি এটি প্রমাণ করার দায়িত্ব তার ওপর বর্তায় না। নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তার ভাষ্য, ক্যাম্পাসে কোনো নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণ করেননি, যা তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ দেয়।
অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে আম্মার বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজশাহীর স্থানীয় শিক্ষার্থীরা একটি কমিটি নিয়ে তার কাছে এসেছিল। তবে ওই কমিটি গঠনের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
নিজের বিরুদ্ধে ৭৬ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন রাকসুর জিএস। তিনি জানান, জুলাই-সংক্রান্ত একটি কনসার্ট আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য আর্থিক সহায়তা দিতে না পারলেও বিভিন্ন কোম্পানির কাছে প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যাংক ও কোম্পানিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, সেই প্রক্রিয়াকেই পরে চাঁদা চাওয়ার ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়।
শিবিরের সঙ্গে নিজের অতীত সম্পৃক্ততার বিষয়ে আম্মার বলেন, তিনি অতীতে শিবিরের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তবে বর্তমানে তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন।
ফাঁস হওয়া শিবিরের চিঠিগুলোর সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আম্মার। তার দাবি, প্রকাশ্যে আসা কাগজপত্র শিবিরের নিজেদের হাতে তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হলেও কোনো অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, রাবি শিবিরের বর্তমান সেক্রেটারি মেহেদী হাসান দাবি করেছেন, আম্মারকে বহিষ্কারের বিষয়ে প্রকাশিত চিঠিগুলো সত্য। তার ভাষ্য, ২০২৫ সালেই সালাউদ্দিন আম্মারকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
এদিকে রাকসু নির্বাচনে শিবিরের ‘ডামি প্যানেল’ হিসেবে আলোচিত ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন সালাউদ্দিন আম্মার। ওই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীব পরবর্তী সময়ে রাবি শিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে পরিচিত হন। আম্মারের শিবির-সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসার পর ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলকে ঘিরে আগের বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।