শিক্ষাব্যবস্থার নানা সংকটের প্রতিবাদে ফ্রান্সে তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ক্রমেই বড় আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকট ও শ্রেণিকক্ষে চাপসহ বিভিন্ন সমস্যার প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক। বিক্ষোভে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও আহত হয়েছেন। ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে অন্তত ৪০০টি স্কুলে।
প্যারিস ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধ করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা এবং শিক্ষকদের ওপর বাড়তি কাজের চাপ নিয়ে ক্ষোভ থেকেই আন্দোলনের সূত্রপাত।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অন্তত ১০ শিক্ষক ও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যও। বিক্ষোভকারীদের কয়েকটি ময়লার পাত্রে আগুন দেওয়া এবং বাসস্টপ ক্ষতিগ্রস্ত করার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রী বলেন, তারা কোনো কারণ ছাড়াই ভাঙচুর করতে আসেননি। শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যাগুলো তুলে ধরতেই তারা রাস্তায় নেমেছেন। তার ভাষ্য, অনেক শ্রেণিকক্ষে ৩৪ জন করে শিক্ষার্থী থাকছে, যা সামলানো কঠিন এবং শিক্ষকেরাও অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছেন।
বিক্ষোভ নিয়ে ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। তবে সহিংসতার ঘটনাকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, প্রতিবাদের অধিকারকে এমন কর্মকাণ্ডের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বিএফএমটিভিকে জানান, মঙ্গলবার ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে আটকের চূড়ান্ত সংখ্যা পরে পরিবর্তিত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ফরাসি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। শিক্ষার্থীদের সংগঠন ইউনিয়ন সিন্দিকাল লিসেয়েনের সভাপতি রিয়াদ রানি পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, সরকার আন্দোলনকারীদের ওপর দমনমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে।
তবে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ ছিল সংযত ও পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ফ্রান্সের ‘লিসে’ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গত সপ্তাহে প্যারিসের আশপাশের ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে সোমবার প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও সহিংস রূপ নিলে সেটিকে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা হবে বলে সতর্ক করেছিলেন। ওই দিন ১৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
একই দিনে দেশজুড়ে শিক্ষক, হাসপাতালকর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের ইউনিয়নগুলোর ডাকা কর্মবিরতিও পালিত হয়। কম বেতন ও কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এতে প্রায় ২ লাখ মানুষ অংশ নেন। তবে অধিকাংশ স্থানেই কর্মসূচি বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে।
#FranceProtests #GenZ #EducationCrisis