অসুস্থ হলে আফ্রিকান হাতিরা নিজেদের চিকিৎসায় বেছে নেয় নির্দিষ্ট কিছু ঔষধি গাছ। শুধু নিজেদের জন্য নয়, পরিবারের সদস্যদের অসুস্থতার ক্ষেত্রেও তারা এসব উদ্ভিদ ব্যবহার করে। এমনকি মা হাতি অসুস্থ শাবককে নির্দিষ্ট ঔষধি উদ্ভিদের অংশ খাওয়ায়।
কেনিয়ার মাউন্ট এলগন অঞ্চলে হাতিদের সঙ্গে বসবাস ও কাজ করা স্থানীয় মানুষদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে পরিচালিত এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, হাতিরা বনাঞ্চলে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিদ শুধু খাবার হিসেবে নয়, চিকিৎসার প্রয়োজনেও ব্যবহার করে।
মাউন্ট এলগন অঞ্চলের হাতিদের আচরণ দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের আগ্রহের বিষয়। এদের ‘লবণ-খননকারী হাতি’ হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে। গুহার ভেতরে ঢুকে দাঁত দিয়ে পাথর ঘষে প্রয়োজনীয় খনিজ ও লবণ সংগ্রহ করে তারা।
সম্প্রতি প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব হাতি অসুস্থতা বা শারীরিক সমস্যার সময় নির্দিষ্ট কিছু উদ্ভিদ বেছে নেয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা এমন আচরণের কথা জানতে পারেন।
গবেষণার অন্যতম প্রধান গবেষক যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ড. এলোডি ফ্রেইম্যান বলেন, বনাঞ্চলের আবাসস্থল ধ্বংস হলে প্রাণী ও মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক ওষুধও হারিয়ে যেতে পারে। তাঁর মতে, মানুষের বাইরেও প্রাণিজগতের সঙ্গে ঔষধি উদ্ভিদের সম্পর্ক কতটা গভীর, হাতিদের এই আচরণ তা তুলে ধরে।
গবেষণাটি মাউন্ট এলগন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। বিজ্ঞানীরা স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রবীণ ব্যক্তি, বাসিন্দা এবং বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষকদের সাক্ষাৎকার নেন। তাদের বর্ণনায় উঠে আসে, হাতিরা অসুস্থ বোধ করলে নির্দিষ্ট উদ্ভিদ খুঁজে নেয়। মা হাতিরা আবার শাবকদের অসুস্থতার সময় ঔষধি অংশ খাওয়ানোর চেষ্টা করে।
এ ছাড়া মাউন্ট এলগন ফাউন্ডেশনের স্থাপন করা নাইট-ভিশন ক্যামেরায় গুহার ভেতরে হাতিদের লবণ ও খনিজ সংগ্রহের দৃশ্যও ধরা পড়েছে। এসব আচরণ হাতিদের খাদ্যাভ্যাস, সামাজিক বন্ধন এবং প্রাকৃতিক চিকিৎসা সম্পর্কে নতুন করে গবেষণার সুযোগ তৈরি করেছে।
সূত্র: বিবিসি
#Wildlife #AfricanElephants #Nature