পবিত্র Eid al-Adha সামনে রেখে দেশের পশুরহাটগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কুরবানির পশু কেনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে কুরবানির পশু কেনার আগে ইসলামী শরিয়তের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে রাখা জরুরি।
ইসলামে কুরবানির গুরুত্ব সম্পর্কে হজরত মিখজাফ ইবনে সালিম (রা.) বর্ণনা করেন, Prophet Muhammad আরাফার ময়দানে বলেছেন, “প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর প্রতি বছর কুরবানি করা কর্তব্য।” (তিরমিজি)
এছাড়া হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় অবস্থানকালে প্রতিবছরই কুরবানি করেছেন। (তিরমিজি: ১৫০৭)
যেসব পশু দিয়ে কুরবানি করা জায়েজ
শরিয়ত অনুযায়ী কেবল নির্দিষ্ট কিছু পশু দিয়েই কুরবানি করা জায়েজ। সেগুলো হলো—
গরু
মহিষ
উট
ছাগল
ভেড়া
দুম্বা
এ ছাড়া অন্য কোনো পশু দিয়ে কুরবানি বৈধ নয়।
পশুর বয়স কত হতে হবে
কুরবানির পশুর নির্ধারিত বয়সও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—
ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা: কমপক্ষে ১ বছর
গরু ও মহিষ: কমপক্ষে ২ বছর
উট: কমপক্ষে ৫ বছর
তবে ভেড়া বা দুম্বা যদি ছয় মাস বয়সেই হৃষ্টপুষ্ট হয়ে এক বছরের মতো দেখায়, তাহলে তা দিয়েও কুরবানি করা জায়েজ।
যেসব ত্রুটিযুক্ত পশু কুরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়
কুরবানির পশু অবশ্যই সুস্থ, সবল ও ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। নিচের বৈশিষ্ট্যের পশু কুরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়—
অত্যন্ত দুর্বল বা হাড়ের মজ্জা শুকিয়ে গেছে এমন পশু
কুরবানির স্থানে হেঁটে যেতে অক্ষম পশু
এমন পঙ্গু পশু, যার পা দিয়ে চলাফেরায় সাহায্য নিতে পারে না
গুরুতর অসুস্থ বা অস্বাভাবিক দুর্বল পশু
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, মোটা-তাজা ও সুস্থ পশু দিয়ে কুরবানি করা মুস্তাহাব।
কুরবানি না করলে সতর্কবার্তা
হাদিসে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি না করার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। বর্ণিত আছে, “যার কুরবানির সামর্থ্য রয়েছে, কিন্তু কুরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।” (মুস্তাদরাকে হাকেম)
কুরবানি শুধু পশু জবাই নয়; এটি Prophet Ibrahim (আ.)–এর আত্মত্যাগের স্মৃতিকে ধারণ করে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও ত্যাগের এক মহান ইবাদত।