এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা না পেয়ে ভোগান্তিতে গ্রাহকরা, সীমিত করা হচ্ছে আন্তঃব্যাংক লেনদেন
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যাংক গ্রাহকরা। বিশেষ করে অন্য ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে টাকা তুলতে গিয়ে অনেকেই খালি হাতে ফিরছেন। কোথাও কোথাও সীমিত পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকলেও বেশ কয়েকটি ব্যাংক সাময়িকভাবে আন্তঃব্যাংক কার্ড ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, কল্যাণপুর, আগারগাঁও, শ্যামলী, টেকনিক্যাল, পান্থপথসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন পরিস্থিতির চিত্র দেখা গেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অর্থ তুলতে একাধিক এটিএম বুথ ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ টাকা পাওয়া যাচ্ছে না।মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আরশাদ হোসেন জানান, ২০ হাজার টাকা উত্তোলনের জন্য কয়েক ঘণ্টা ধরে ছয়টি বুথে চেষ্টা করেও তিনি টাকা পাননি। পরে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে অতিরিক্ত চার্জ দিয়ে টাকা তুলতে হয়েছে। এতে বাড়তি খরচ গুনতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিভিন্ন বুথে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উত্তোলন এবং মাসের শুরুতে স্বাভাবিক লেনদেনের চাপ বৃদ্ধির কারণে এটিএম বুথগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে কিছু ব্যাংক নিজেদের গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দিতে অন্য ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের সুবিধা সীমিত করেছে।
রাজধানীর কয়েকটি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বুথে দেখা গেছে, নিজস্ব গ্রাহকেরা তুলনামূলক বেশি অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পেলেও অন্য ব্যাংকের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে সিটি ব্যাংক, কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং আরও কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের বুথে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা। বিভিন্ন এলাকায় ব্যাংকটির একাধিক বুথে টাকা না থাকা কিংবা সাময়িকভাবে সেবা বন্ধ থাকার কারণে গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা স্থানান্তর করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করছেন, যার ফলে অতিরিক্ত চার্জ গুনতে হচ্ছে। ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক বুথে অন্যান্য ব্যাংকের গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিজেদের গ্রাহকদের সেবা নিশ্চিত করতে কিছু ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। তবে এটি কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকীর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক খাতে নানা অনিশ্চয়তা এবং খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণে অনেক গ্রাহকের আস্থা কমে গেছে। এর প্রভাবে নগদ অর্থ উত্তোলনের প্রবণতা বেড়েছে এবং কিছু ব্যাংকে তারল্য সংকটের প্রভাব এটিএম সেবাতেও প্রতিফলিত হচ্ছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।