শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে উত্তপ্ত উত্তরা, অচল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক
শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (১৫ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষে রাজধানীর উত্তরায় সড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এয়ারপোর্ট-ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
দুপুর দেড়টার পর উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন। আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরেন এবং জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গ্রহণ করায় হাজারো পরীক্ষার্থী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। তারা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা স্থগিত করে শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত ছিল।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেছেন। দাবিগুলো হলো-দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা, গত ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত করা।
বুধবারের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীরা বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি। তাদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই আমরা আন্দোলনে নেমেছি। এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আন্দোলনস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে জলকামানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাতে না জড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সড়ক অবরোধের কারণে এয়ারপোর্ট-ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে অফিসগামী যাত্রী, বিমানবন্দরমুখী যাত্রী এবং সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সেদিনও তারা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের প্রতিবাদ জানান এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। একই সঙ্গে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা না এলে পরদিন শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন।
পরবর্তীতে পরীক্ষা স্থগিতের কোনো ঘোষণা না আসায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বুধবার আন্দোলনে নামেন তারা। আন্দোলনের ফলে রাজধানীর উত্তরার পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।