সমান পয়েন্ট হলে কে যাবে নকআউটে, জানাল ফিফা
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে একের পর এক ড্রয়ের ফলে বেশ কয়েকটি গ্রুপে জমে উঠেছে শেষ ষোলোর লড়াই। একাধিক দল সমান পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করায় আলোচনায় এসেছে গুরুত্বপূর্ণ এক প্রশ্ন-গ্রুপ পর্ব শেষে দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে কোন দল পাবে নকআউট পর্বের টিকিট? এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সংস্থাটির নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সমান পয়েন্ট পাওয়া দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণে এবার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে মুখোমুখি ম্যাচের ফলাফলের ওপর।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে সবার আগে দেখা হবে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ফলাফল। অর্থাৎ পারস্পরিক লড়াইয়ে যে দল ভালো করেছে, তারা অবস্থান নির্ধারণে বাড়তি সুবিধা পাবে।
মুখোমুখি ম্যাচের ফলাফল থেকেও যদি কোনো দলকে আলাদা করা সম্ভব না হয়, তাহলে বিবেচনায় আসবে সামগ্রিক গোল ব্যবধান। এরপরও সমতা বজায় থাকলে দেখা হবে গ্রুপ পর্বে কোন দল বেশি গোল করেছে।
এরপরও যদি দুই বা একাধিক দলের মধ্যে কোনো পার্থক্য তৈরি না হয়, তাহলে গুরুত্ব পাবে ‘ফেয়ার প্লে’ রেকর্ড। অর্থাৎ কম হলুদ ও লাল কার্ড পাওয়া দল এগিয়ে থাকবে। শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ডেও সমতা থাকলে সবশেষে বিবেচনায় নেওয়া হবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রকাশিত ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিং। র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলই পাবে পরবর্তী পর্বে খেলার সুযোগ।
এবারের বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নিয়েছে। দলগুলোকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ সরাসরি নকআউট পর্বে জায়গা করে নেবে। এছাড়া বিভিন্ন গ্রুপের আটটি সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলও পরবর্তী পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। তবে তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা ভিন্ন। যেহেতু তারা ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপে খেলেছে, তাই তাদের মধ্যে কোনো মুখোমুখি ম্যাচ নেই। ফলে এ ক্ষেত্রে হেড-টু-হেড ফলাফল বিবেচনার সুযোগ থাকে না।
এ কারণে ফিফা সব তৃতীয় স্থানধারী দলকে নিয়ে একটি আলাদা র্যাঙ্কিং বা ‘ওয়াইল্ডকার্ড টেবিল’ তৈরি করবে। সেখানে প্রথমে বিবেচনায় আসবে অর্জিত পয়েন্ট। পয়েন্ট সমান হলে দেখা হবে গোল ব্যবধান, এরপর মোট গোলসংখ্যা। তাতেও সমতা থাকলে গুরুত্ব পাবে ফেয়ার প্লে রেকর্ড এবং সবশেষে বিবেচনা করা হবে ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিং। ফলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলোতে শুধু জয়-পরাজয়ই নয়, গোল ব্যবধান, গোলসংখ্যা এবং শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ডও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি অতিরিক্ত গোল কিংবা একটি হলুদ কার্ডই নির্ধারণ করে দিতে পারে কোনো দলের নকআউট পর্বে ওঠা কিংবা বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের ভাগ্য।
ফিফার নতুন নিয়মে সমান পয়েন্ট হলে অবস্থান নির্ধারণের ক্রম
১. মুখোমুখি ম্যাচের ফলাফল (হেড-টু-হেড)
২. সামগ্রিক গোল ব্যবধান
৩. মোট গোলসংখ্যা
৪. ফেয়ার প্লে রেকর্ড (কম কার্ড পাওয়া দল)
৫. ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিং
তবে তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর ক্ষেত্রে হেড-টু-হেড বিবেচনায় না এনে পয়েন্ট, গোল ব্যবধান, গোলসংখ্যা, ফেয়ার প্লে রেকর্ড এবং ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে সেরা আট দল নির্ধারণ করা হবে।