২০১৮ সালের শতভাগ ভোট পড়া কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের খুঁজছে দুদক
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শতভাগ ভোট পড়েছে বলে উল্লেখ থাকা কেন্দ্রগুলোর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করার কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে ওই নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে সংস্থাটি।
বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আলোচিত ওই নির্বাচনে শতভাগ ভোট পড়া কেন্দ্রগুলো এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। এ কাজে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনগুলো নিয়ে বিভিন্ন সময় অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন সরকারকে নির্বাচনী সুবিধা দিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছিল। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পাঁচ সদস্যের একটি অনুসন্ধানী দল গঠন করে দুদক।
অনুসন্ধানী দলটি বিশেষ করে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে শতভাগ ভোট পড়ার ঘটনা, ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এবং নির্বাচনী অনিয়মের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, রেকর্ড এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে রাজধানীর মিরপুরে তার মালিকানাধীন আরেকটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়েছে দুদক।
বুধবার দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সঙ্গে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় ফ্ল্যাটে থাকা বিভিন্ন মালামাল ও সম্পদের তথ্য সংগ্রহ এবং জব্দের কার্যক্রম শুরু করা হয়।
এর আগে গত ২২ জুলাই রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসিক প্রকল্পে জিয়াউল আহসানের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়ার দাবি করে দুদক। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে মূল্যবান ধাতুসহ শত কোটি টাকার সম্পদের প্রমাণ মিলেছে।