টানা বৃষ্টির প্রভাবে অস্থির কাঁচাবাজার, বাড়ছে নিত্যপণ্যের মূল্য
টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে সরবরাহ সংকুচিত হওয়ায় খুলনার খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আবারও বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে কাঁচামরিচে, যার কেজি এখন ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে পেঁয়াজ ও বিভিন্ন ধরনের সবজির দামও বেড়েছে, ফলে বাড়তি চাপের মুখে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শনিবার (১ আগস্ট) নগরীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারভেদে প্রতি কেজি কাঁচামরিচের দাম ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। কিছু ভ্রাম্যমাণ দোকানে আরও বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। সপ্তাহখানেক আগেও তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজের কেজি এখন মানভেদে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় উৎপাদন কমেছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবেই দাম বেড়েছে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের সন্ধ্যা বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, তাদের বাজারে সাধারণত অন্যান্য বাজারের তুলনায় কিছুটা বেশি দামে পণ্য বিক্রি হয়। অনেক ক্রেতা অল্প পরিমাণে কাঁচামরিচ কেনেন, ফলে প্রতি পোয়া মরিচ ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
কাঁচামরিচের পাশাপাশি সবজির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মানভেদে বেগুনের কেজি ১০০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া করলা, টমেটো, পটল, ঢেঁড়সসহ বিভিন্ন সবজির দাম ৭০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
বড় বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, অতিবৃষ্টিতে মরিচ গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পণ্য না থাকায় দাম বেড়েছে। তবে অনেক ক্রেতার অভিযোগ, বৃষ্টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা করছেন। তাদের দাবি, মানুষের আয় না বাড়লেও প্রতিদিন নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সংসারের ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারে নিয়মিত তদারকি জোরদারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার এক অটোরিকশাচালক বলেন, প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা আয় করাও এখন কঠিন। বিদ্যুতের খরচ ও অন্যান্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের প্রয়োজনীয় বাজার করা দিন দিন কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহে প্রভাব পড়েছে, যার ফলে বাজারে মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নিয়মিত বাজার তদারকি চলছে এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।