ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন, নতুন শর্তে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভিসা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন বিধান কার্যকর হলে ভিসার মেয়াদ কমার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর আরোপ হবে একাধিক নতুন শর্ত।
বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা নীতিতে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভিসার মেয়াদ ও অবস্থান সংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুনর্নির্ধারণ করেছে দেশটির প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশ করেছে। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের ৬০ দিন পর এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর আগে কংগ্রেসের পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এফ-১, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির জে এবং বিদেশি সাংবাদিকদের আই ভিসা সাধারণত সংশ্লিষ্ট শিক্ষা, কর্মসূচি বা চাকরির মেয়াদকাল পর্যন্ত বৈধ থাকে। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে এ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। প্রস্তাবিত নীতিমালায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও জে ভিসাধারীদের জন্য সর্বোচ্চ ভিসার মেয়াদ চার বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিদেশি সাংবাদিকদের আই ভিসার মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ২৪০ দিন। তবে চীনা নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই মেয়াদ আরও কমিয়ে ৯০ দিন রাখা হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের শুরু থেকে অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে বৈধ ও অবৈধ উভয় ধরনের অভিবাসন নিয়েই নজরদারি জোরদার করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিবাসীদের ভিসা এবং বৈধ অবস্থান বাতিলের ঘটনাও ঘটেছে।
নতুন নীতিমালায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আর ইচ্ছামতো কোর্স বা শিক্ষাগত লক্ষ্য পরিবর্তন করতে পারবেন না। যথাযথ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরও সম্ভব হবে না। এ ছাড়া পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর বর্তমানে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের জন্য ৬০ দিন সময় পেলেও নতুন নিয়মে তা কমিয়ে ৩০ দিন করা হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন ভিসা বা অন্য কোনো বৈধ অনুমতি না পেলে তাদের দেশ ছাড়তে হবে।
নীতিমালার সমালোচনা করেছেন অভিবাসন ও শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্টরা। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ডাগ র্যান্ড বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির পরিবর্তে নতুন বিধান অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করবে। অন্যদিকে, অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাটো ইনস্টিটিউটের অভিবাসন বিভাগের পরিচালক ডেভিড জে. বিয়ার মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোর্স পরিবর্তনের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। তার ভাষ্য, মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে নতুন ভিসার ব্যবস্থা করা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। বেইজিংয়ের দাবি, বিশেষ করে চীনা সাংবাদিকদের জন্য আলাদা মেয়াদ নির্ধারণ করা বৈষম্যমূলক এবং এটি দুই দেশের মধ্যে পূর্ববর্তী গণমাধ্যম সংক্রান্ত সমঝোতার পরিপন্থী। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছেন, প্রয়োজনে বেইজিংও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার সংরক্ষণ করে।
স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শিক্ষার্থী ভিসায় ১৮ লাখের বেশি ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে পাঁচ লাখের বেশি ব্যক্তি সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির আওতায় ভিসা পেয়েছেন এবং প্রায় ৩৭ হাজার বিদেশি সাংবাদিককে আই ভিসা প্রদান করা হয়েছে।
ডিএইচএসের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব ভিসাধারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের কার্যক্রম তদারকি ও পর্যবেক্ষণ আগের তুলনায় আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এ কারণেই ভিসার মেয়াদ নির্দিষ্ট করে নতুন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে।
নতুন বিধান কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও অবস্থান আগের তুলনায় আরও নিয়ন্ত্রিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।