স্বস্তি ফিরেছে জ্বালানি বাজারে, বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম
মার্কিন-ইরান আলোচনার ইতিবাচক বার্তায় কমেছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম। সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের প্রথম দফার আলোচনা শেষে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।
সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৫৩ ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৭৯ দশমিক ০৪ ডলারে নেমে আসে। যদিও দিনের শুরুতে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকির জেরে দাম বেড়ে ৮২ দশমিক ৩০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের জুলাই চুক্তির মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৭ সেন্ট কমে ৭৬ দশমিক ৫৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির চুক্তির দাম ৫৫ সেন্ট কমে ৭৫ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ছুটির কারণে শুক্রবার বাজারে আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তি হয়নি।
সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে মধ্যস্থতাকারীরা জানান, মার্কিন ও ইরানি শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে শেষ হয়েছে। গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও অন্তত ৬০ দিন বাড়ানোর লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি জব্দকৃত কিছু সম্পদ অবমুক্ত করা এবং দেশটির পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোরের মতে, সাম্প্রতিক আলোচনায় উভয় পক্ষের মধ্যে কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেছে এবং একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি গঠনের বিষয়েও তারা সম্মত হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর চলমান উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও মনে করছেন তিনি।