হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ছয় শর্ত
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ছয়টি শর্ত দিয়েছে ইরান। এসব শর্ত পূরণ না হলে প্রণালিটি খোলার বিষয়ে তেহরান কোনো ছাড় দেবে না বলে জানিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।
শনিবার (৮ আগস্ট) এক বিবৃতিতে পরিষদ জানায়, যুক্তরাষ্ট্র তার নীতি ও আচরণে পরিবর্তন না আনা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না। পরিষদের সচিব ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর ওয়াশিংটনের প্রতি ইরানের দাবিগুলো তুলে ধরেন।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে-দেশটির সর্বোচ্চ নেতাকে হুমকি দেওয়া বন্ধ করা, ইরান ও এর আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, অবরোধে অংশ নেওয়া মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার, সাম্প্রতিক সংঘাতের ক্ষতিপূরণ দেওয়া, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরান যে নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে, তা আর পরিবর্তন করা হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আকরামিনিয়া। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। তা না হলে ওয়াশিংটনকে আগের চেয়েও বড় মূল্য দিতে হতে পারে।
তবে একদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের কঠোর অবস্থানের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা দেখছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিই দুই দেশের মধ্যে আলোচনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। যুদ্ধের পর ইরান আরও ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আলোচনার মাধ্যমেই ইরানের অধিকার আদায়ের কথা জানান পেজেশকিয়ান।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাঁর দাবি, একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে দুই দেশ। আলোচনায় প্রথম ধাপে একটি অস্থায়ী নৌপথ চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। পরবর্তী সময়ে সেটিকে স্থায়ী নৌপথে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইরানের এসব দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র। তবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালুর আগে একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তি নিশ্চিত করতে চায় ওয়াশিংটন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরান তাদের জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল আরোপের পরিকল্পনা নেই। তবে তেহরানের বক্তব্যের চেয়ে বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ডকেই বেশি গুরুত্ব দেবে যুক্তরাষ্ট্র।