দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলমান রাজনৈতিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যন্তর মন্তরের প্রধান বিক্ষোভস্থল তুলনামূলক শান্ত থাকলেও সংসদ মার্গ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, সংসদ মার্গ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
টেলিযোগাযোগ খাতের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে এয়ারটেল, জিও এবং ভি-সহ বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরকে নির্দিষ্ট এলাকায় ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। দুটি শীর্ষ টেলিকম প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এমন নির্দেশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ কোন সরকারি কর্তৃপক্ষ জারি করেছিল, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ধাপে ধাপে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু করা হয় বলে জানা গেছে। দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে দুই সহকারী পুলিশ কমিশনার, একজন পরিদর্শক, একজন প্রধান কনস্টেবল এবং একজন কনস্টেবলসহ মোট পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশের দাবি, সংসদ মার্গের পার্ক হোটেল সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ হঠাৎ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ শুরু করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে এক পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া করে মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা নেয় পুলিশ। স্বেচ্ছাসেবকরা বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং সহিংস কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এ সময় একটি পুলিশ বাসে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে একজন স্বেচ্ছাসেবককে দিয়ে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে শান্ত থাকার বার্তা প্রচার করা হয়। তিনি সংসদ মার্গ এলাকায় ঘুরে ঘুরে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত যন্তর মন্তর কেন্দ্রিক প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয় বলে জানা গেছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে পুলিশ আটক করে। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচির পর রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
নিরাপত্তার স্বার্থে দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশনও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে নগরবাসীর স্বাভাবিক যাতায়াতে ব্যাপক ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক টানাপোড়েন, চলমান আন্দোলন এবং প্রশাসনের কড়া অবস্থানের কারণে দিল্লির পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার ও আন্দোলনকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে সংকট কোন দিকে গড়াবে।