আমি না বলা পর্যন্ত হামলা চলবে-ইরানকে নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর বার্তা
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরান আলোচনায় না ফিরলে আগামী দিনগুলোতে হামলার পরিধি আরও বাড়ানো হবে এবং প্রয়োজনে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হামলা বন্ধের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তার ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, “যতক্ষণ না আমি বলছি যে যথেষ্ট হয়েছে, ততক্ষণ অভিযান চলতে থাকবে।”
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের উপকূলীয় ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হতে পারে।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “তারা যদি আলোচনার টেবিলে ফিরে না আসে, তাহলে আমরা আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব। জ্বালানি স্থাপনাগুলো আপাতত শেষের জন্য রাখা হয়েছে।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা প্রক্রিয়া চলমান ছিল, তবে শেষ মুহূর্তে তা ভেস্তে যায়। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎকারের প্রায় এক ঘণ্টা আগেও ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
তিনি বলেন, “তাদের সামনে সমঝোতা করা ছাড়া আর কোনো বাস্তবসম্মত পথ নেই। অন্যথায় তারা আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।” হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও কৌশলগত সম্পর্কের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যে নতুন করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেন্টকমের তথ্যমতে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ ও শত শত সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বাহরাইন ও কুয়েতে পরিচালিত অভিযানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক সরঞ্জাম ও ড্রোন ধ্বংস করেছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো পক্ষের দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল রয়ে গেছে।