২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০ ঘণ্টাই বিদ্যুৎহীন তাহিরপুর, বিপর্যস্ত জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে মাত্র চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে, বাকি সময়জুড়ে চলছে লোডশেডিং।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ছাড়াই দিন-রাতের যেকোনো সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি হাসপাতাল, ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা।
তাহিরপুর বাজারের ব্যবসায়ী মুতাকাব্বির মিয়া জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ফ্রিজে সংরক্ষিত আইসক্রিম ও ঠান্ডা পানীয় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে যেমন আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি ক্রেতার উপস্থিতিও কমে গেছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাহিরপুর জয়নাল আবেদীন ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জহির উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেন, উপজেলার বাসিন্দারা দিনে পাঁচ ঘণ্টাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। টাঙ্গুয়ার হাওরসংলগ্ন ছিলানি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হালিমও বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত পরিশোধ করার পরও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় তরুণদের অভিযোগ, বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় যখন পুরো দেশ মেতে আছে, তখন দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে তাহিরপুরের মানুষ সেই আনন্দ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের মতে, এত বড় সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগী জালাল উদ্দিন বলেন, তীব্র গরমের মধ্যে রাতভর বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ এলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার চলে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের তাহিরপুর শাখার ব্যবস্থাপক অমর সরকার জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যাংকের কার্যক্রম চালাতে পুরো সময় জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। দীর্ঘ চাকরি জীবনে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি তিনি আগে হননি।
এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাশাদ আহমেদ বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালের জেনারেটর দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকে অবহিত করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এদিকে বাদাঘাট পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আলাউল হক সরকার জানিয়েছেন, তাহিরপুর উপজেলায় দৈনিক প্রায় ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩ মেগাওয়াট। চাহিদা ও সরবরাহের এই বড় ব্যবধানের কারণে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের পর প্রায় দুই ঘণ্টা লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।