আবারও বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা, ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা
ইরানের দক্ষিণাঞ্চল ও পারস্য উপসাগরসংলগ্ন কয়েকটি কৌশলগত এলাকায় নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার পর কেশম ও কিশ দ্বীপসহ বন্দর আব্বাস, আবাদান এবং বুশেহর অঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের সামরিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অবকাঠামো, উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা এবং নৌ-সামরিক সক্ষমতার ওপর সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা। কেশম দ্বীপে একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানার ঘটনায় অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সময়ে হরমুজগান প্রদেশের বন্দর আব্বাস এবং পর্যটননির্ভর কিশ দ্বীপ এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে কিশ দ্বীপের বিমানবন্দর ও নৌ-যোগাযোগ কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া খুজেস্তান প্রদেশের আবাদান এবং ফার্স প্রদেশের কয়েকটি এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে জর্ডানে মার্কিন স্বার্থ লক্ষ্য করে চালানো হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান শুরু হয়। ওয়াশিংটন বলছে, ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাই এ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগর অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।