১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচিকে ঘিরে গুলিস্তান-পল্টনে তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে নগরবাসী
রাজধানীতে ১১ দলীয় ঐক্যের অবস্থান কর্মসূচি, সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা এবং পুলিশি ব্যারিকেডকে কেন্দ্র করে গুলিস্তান, পল্টন ও জিরো পয়েন্ট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এসব এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি ও ধীরগতির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
সকাল ১১টার দিকে পল্টন-জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে ১১ দলীয় ঐক্য। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের হাতে গ্যাসের চুলা ও রান্নার হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়।
কর্মসূচি থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবির মধ্যে ছিল কথিত ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে গণশুনানির আয়োজন, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ, ডিমান্ড চার্জ ও অন্যান্য অযৌক্তিক ফি প্রত্যাহার, বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া।
এ ছাড়া গ্যাস সরবরাহ না থাকলে বিল আদায় বন্ধ, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, কূপ খনন, মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম পর্যালোচনা, গ্যাসের সিস্টেম লস ও চুরি রোধ, পুরোনো পাইপলাইন সংস্কার এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।
অবস্থান কর্মসূচি শেষে নেতাকর্মীরা সচিবালয়ের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করলে জিরো পয়েন্ট এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের অগ্রযাত্রা আটকে দেয়। এ সময় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সচিবালয়ের সব প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয় এবং বিভিন্ন গেটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ফলে প্রয়োজনীয় কাজে সচিবালয়ে আসা অনেক মানুষও দুর্ভোগে পড়েন।
সচিবালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা সংঘাত নয়, জনগণের দাবি সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে তুলে দিতে এসেছেন। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্বশীল কোনো প্রতিনিধি পাঠালে তাদের হাতে দাবি তুলে দেওয়া হবে। তবে জনগণের দাবি উপেক্ষিত হলে আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।